প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:১৯ পিএম আপডেট: ০৭.১০.২০২৫ ৭:২২ PM

প্রতীকী ছবি
কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। মাদকাসক্তদের ছত্রছায়ায় চুরি ও ডাকাতির হার কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে অন্তত ১০টি ডাকাতি এবং অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বেশিরভাগে থানায় মামলা না হওয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ভুক্তভোগী হলেও ততটা সুরাহা পাচ্ছে না।
মুছাপুর ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. মুন্না দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জনগণকে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন। মসজিদভিত্তিক সচেতনতা কর্মসূচিও পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয় মুরব্বীদের পরামর্শে মুছাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদকসেবীদের পাকড়াও করা হয়। এই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি মুন্নার উপর হামলাও হয়।
হামলার পর এলাকার বাসিন্দারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ গত রবিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা মুহিদ, সেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহন, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ রানা, মোহন, মানিক, সমাজসেবক ছরওয়ার মিয়া, মানিক মেম্বারসহ স্থানীয় গণ্য-মান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার দশক ধরে আবদুর রউফ ভান্ডারি ও তার ছেলে ফকিরসহ পরিবারের সদস্যরা এলাকার বিভিন্ন স্থানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ নানা প্রকার মাদক বিক্রি করে আসছে। মাদক বিক্রি ও সেবন বন্ধ করার চেষ্টায় প্রতিবাদ করলে এসব ব্যবসায়ীরা হামলা-ধমকি দেন।
এছাড়াও গভীর রাতে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে। আগে মাদকসহ আটক হলে কিছু দিন পর তারা আবার মুক্ত হয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার তথ্যও স্থানীয়দের কাছে আছে। সন্ধ্যার পর থেকে অচেনা ব্যক্তিরা এসে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করে, স্থানীয়রা সন্দেহে তাদের ধরণ করলে তারা ক্ষমা চাইতে আসে, কিন্তু পুনরায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে যায়। ফলে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী ও কিশোররাই সবচেয়ে বেশি বিপথগামী হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
মুছাপুর যুবদলের নেতা মো. মুন্না বলেন, আমার উপর যতই হামলা হোক, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে থাকব।
কোম্পানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কাউসার সাংবাদিকদের বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, মাদকের সিন্ডিকেট ভাঙতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।