
চিকুনগুনিয়া জ্বরের পাশাপাশি এ রোগে সৃষ্ট তীব্র গিটে ও মাংসপেশীর ব্যথা রোগীদের জন্য সবচেয়ে কষ্টকর উপসর্গ। চলতি বছর দেশে এই ভাইরাসজনিত রোগের প্রভাব তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সচেতনতা ও সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ
চিকুনগুনিয়ার প্রধান উপসর্গ হলো উচ্চ জ্বর ও অস্থিসন্ধি বা মাংসপেশীর তীব্র ব্যথা। হাঁটু, গোড়ালি, কবজি, কনুই ও আঙুলের গিটে এই ব্যথা এতটাই তীব্র হতে পারে যে রোগী স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতেও অক্ষম হয়ে পড়েন। যাদের আগে থেকেই বাত, ঘাড় বা কোমরের ব্যথা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকুনগুনিয়া অ্যান্টিজেন, আইজিএম ও আইজিজি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত রোগটি আসলেই চিকুনগুনিয়া কিনা। কারণ এর ব্যথা অনেক সময় অন্যান্য বাতজনিত রোগের সঙ্গে মিলে যেতে পারে।
চিকিৎসা ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ
চিকুনগুনিয়ার এখনো নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসা হয় মূলত উপসর্গভিত্তিক। জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সবচেয়ে নিরাপদ। কিছু ক্ষেত্রে প্রদাহনাশক ওষুধ (যেমন ন্যাপ্রোক্সেন বা ডাইক্লোফেনাক) ব্যবহার করা যেতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শে।
রোগীর শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকা খুব জরুরি। তাই প্রচুর পরিমাণে তরল, যেমন—ডাবের পানি, ফলের রস ও স্যুপ খাওয়া উপকারী। এটি শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করে এবং মাংসপেশীর সংকোচন কমায়।
ফিজিওথেরাপি ও যত্ন
চিকুনগুনিয়ার ব্যথা উপশমে ফিজিওথেরাপি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এটি ধীরে কাজ করে। ইলেকট্রোথেরাপি ব্যবহার করে ব্যথা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সংক্রমণ সক্রিয় অবস্থায় কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন বা ভারী ব্যায়াম করা উচিত নয়, কারণ এতে ব্যথা ও প্রদাহ আরও বাড়তে পারে।
ব্যথা কমাতে বরফ সেক কার্যকর হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে হালকা গরম সেকও আরাম দেয়। ঠান্ডা বা গরম প্রয়োগের বিষয়টি রোগীর সংবেদনশীলতা ও প্রদাহের মাত্রা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
লেখক: ড. মোহাম্মদ আলী, ডক্টর অব ফিজিক্যাল থেরাপি (ডিপিটি), ইউনিভার্সিটি অব মন্টানা, যুক্তরাষ্ট্র
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ