
যশোরের নওয়াড়াপাড়া পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুর এলাকায় পুলিশি ছত্রছায়ায় প্রতিদিন অনানুষ্ঠানিক জুয়ার আসর বসছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, প্রতিরাতে এখানে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয় এবং এতে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর তরুণ সংঘের পাশের একটি বাগানে প্রতি রাত আটটা থেকে ভোর পর্যন্ত জুয়ার আসর বসে। এসব আসরে জয়েন-আনেজনের জন্য আগত জুয়াড়িদের আনা-নেওয়ার জন্য আট থেকে দশটি মাইক্রোবাস রিজার্ভ রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব যানবাহন খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মণিরামপুর, ডুমরিয়া ও নড়াইল অঞ্চল থেকেও জুয়াড়িদের নিয়ে আসে।
স্থানীয়দের দাবি, আসর পরিচালনায় বিএনপির দুই গ্রুপও সংশ্লিষ্ট -দলের দুই পক্ষ এখন বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে মাঠে নেমেছে এবং যে কোনো সময় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এক শৃঙ্খলা সংকটের কথাও উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রতিরাতে “উপরি” নিয়ে নিচ্ছেন এবং তাদের সমর্থনেই জুয়ার আসর চালু হচ্ছে। ফলে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জুয়ার আসরের কারণে বহিরাগত চোরাকারবারি ও মাদকসেবিদের আনাগোনা বাড়ছে; গ্রাম-মহল্লার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। একজন বলেন, ‘জুয়া খেলে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, কেউ কেউ গ্রামের সংসার ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।’
জুয়ার আসর চালানো ও এ সংক্রান্ত অন্য অভিযোগে উল্লেখিতদের মধ্যে স্থানীয় যুবলীগের কিছু পরিচিত নামও রয়েছে- তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাহার কিংবা প্রমাণের অপেক্ষায়, সংশ্লিষ্টরা পাল্টা বা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগের উদ্দেশ্যে নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল যে মিন্টু খা (চিটার মিন্টু) ও সাবেক পৌর মেয়র সুশান্ত দাস শান্তের নাম জড়িত। মিন্টু খা সাংবাদিককে বলেন, ‘আমি জুয়া বোর্ড চালাই না; বোর্ড চালায় সেলিম’ -এবং তিনি মাঝে মাঝে খেলতে যান বলে জানিয়েছেন। অন্য একজন কালো নাম সেলিম নিজেকে বোর্ড চালানো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকা অস্বীকার করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আইসি সনজিৎ কুমার বলেছেন, ‘‘তিনি সম্প্রতি ছুটিতে ছিলেন এবং ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে তিনি জানিয়েছেন, আজ রাত থেকে আমার এলাকায় কোনো খারাপ কাজ হবে না” এবং অভিযানের মাধ্যমে জুয়ার আসর বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছেন। আইসি আরো বলেন, সেলিমকে ধরার জন্য তাঁর টিম প্রস্তুত আছে।’’
এলাকাবাসী ও স্থানীয় নেতারা প্রশাসনের তৎপরতা দ্রুত বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। তারা নির্দেশিত তদন্ত ও জরুরি হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে ঘটনার গভীরতার স্বপক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ প্রতিপাদন না হলে কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার আক্রমক আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম