
পবিত্র কোরআনে সালাত কায়েমের জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন আল্লাহ। তিনি প্রত্যেক মুসলমানের ওপর সালাতকে ফরজ করে দিয়েছেন। কিন্তু দুনিয়ার মোহে পড়ে অনেকেই তা এড়িয়ে চলেন। এই নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি মসজিদে বসানো হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, যা নামাজে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার এক ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আযান ধ্বনিত হচ্ছে মসজিদের মাইকে। আর চারদিক থেকে মুসল্লিরা দলে দলে ছুটে আসছেন মসজিদের দিকে। মসজিদের প্রধান ফটকের এক কোণে স্থাপন করা হয়েছে একটি ইলেকট্রনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন। কেউ নামাজের আগে, কেউবা পরে সেখানে নিজের আঙুলের ছাপ দিচ্ছেন।
বাংলাদেশে এই উদ্যোগ নতুন, কারণ এখনো দেশের অধিকাংশ মসজিদে এরকম প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি চালু হয়নি। কিন্তু রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দাপার্ক মসজিদে এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।
১৯৮০ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে গড়ে তোলা অগ্রপথিক পল্লী সমিতি এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনে মূল ভূমিকা রাখে। এই সমিতির অধীনে গড়ে তোলা হয়েছে জিন্দাপার্ক, মসজিদ, লিটল এনজেল সেমিনারি স্কুল এবং অন্বেষা পল্লী লাইব্রেরি।
জিন্দাপার্কে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত নামাজে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতেই মসজিদের প্রবেশপথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন বসানো হয়েছে। এছাড়াও, সমিতির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান লিটল এনজেল সেমিনারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নামাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এতে করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও সালাতের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে। তারা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান নয়, নামাজের অভ্যাস ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে উঠছে। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা কমছে, এবং শিশু-কিশোররা একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে।
জিন্দাপার্ক মসজিদের ইমাম মুফতি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ‘মূলত অগ্রপথিক পল্লী সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নামাজে উৎসাহিত করতেই মসজিদে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন বসানো হয়েছে। এতে করে কাদের নিয়মিত নামাজ পড়ার অভ্যাস আছে তা যাচাই করা হয় এবং স্কুল থেকে ভালো ব্যবহারের পাশাপাশি নামাজের জন্যও মার্কিং করা হয়।’
দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ টুটুল বলেন, ‘এই উদ্যোগটি যদি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে মুসল্লির সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে এবং সমাজ থেকে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম