
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকি দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা হলেও তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি অফিসে না গিয়ে শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি বাজারে বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের দাবিতে আয়োজিত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এটি একজন সরকারি কর্মচারীর জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, তিনি শুধু আজ নয়, প্রায়ই অফিস ফাঁকি দেন। এটা অনেকদিন ধরেই চলেছে।
এ বিষয়ে মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে কিছু গাছ লাগানো হয়েছে, তার খুঁটি দেওয়ার জন্য বাঁশ কিনতে বড়াইকান্দি বাজারে যাই। সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির লোকজন লিফলেট বিতরণ করছিল, আমি তাদের পাশ দিয়েই যাচ্ছিলাম। কে বা কারা আমার ছবি তুলে বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে।’
তবে স্থানীয় যুবদলের সদস্য সচিব মো. মশিউর রহমান পলাশ জানান, তিনি যুবদলের কমিটিতে নেই, অন্য কোনো সংগঠনে আছেন কিনা জানি না।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে উপস্থিত থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা আইন, ২০১৪ অনুসারে, কোনো কর্মকর্তা যদি পরপর দুইদিন অফিসে দেরিতে আসেন বা সময়ের আগেই চলে যান, তাহলে তার এক দিনের মূল বেতন কেটে নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এ আইনের প্রয়োগ খুবই কম দেখা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মচারী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন না। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুড়িগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবা প্রত্যাশীরা ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, ‘সরকারি চাকরিতে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া একদিকে যেমন অনৈতিক, অন্যদিকে নিয়ম লঙ্ঘনের সামিল।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম