প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:১৪ পিএম আপডেট: ০৩.১০.২০২৫ ৪:২০ PM

লালমনিরহাটে অল্প সময়ে কম খরচে বেশি মুনাফার আশায় শীতকালীন আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে চাষীদের স্বপ্ন জেগেছে। আগাম জাতের এসব সবজির চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও ভালো থাকে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে লালমনিরহাট জেলায় আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চাষিরা আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষে ঝুঁকছেন। সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন এই সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। তুলনামূলক উঁচু জমি ও পানির জমে না এমন জায়গা আগাম সবজি চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
চারা রোপণ, প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং সেচের মাধ্যমে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ঘরে তোলা সম্ভব। এছাড়া বেগুন, মরিচ, টমেটো, ধনিয়া পাতা, শিমের মতো আগাম জাতের অন্যান্য সবজিও চাষ হচ্ছে।
লালমনিরহাটের সবজি প্রতিদিন ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় সবজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
মহেন্দ্রনগরের চিনিপাড়া গ্রামের চাষী ছব্বুল আলী বলেন, ‘আগাম সবজির চাহিদা বেশি হওয়ায় বিক্রির সমস্যা হয় না। পাইকারা ক্ষেত থেকেই এসব সবজি সংগ্রহ করে বাজারজাত করে। কখনও কখনও তারা কৃষকদের ক্ষেত কিনে শ্রমিক দিয়ে সংগ্রহ করান।’
ফুলকপি চাষী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে বীজ থেকে ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারজাত করা সম্ভব। আমি প্রতি বছর তিন বিঘা জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করি। গত বছর দুই লক্ষ টাকার খরচে প্রায় চার লক্ষ টাকার বিক্রি করেছি, যা ভালো লাভ।’
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, ‘ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী চাষীরা আগাম জাতের সবজি চাষাবাদ করেছেন। এবছর আবহাওয়া ও বাজার উভয়ই ভালো থাকায় চাষিরা লাভবান হবেন। আমরা কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম