প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৪৪ AM আপডেট: ০৩.১০.২০২৫ ৬:৪৫ এএম

বর্তমান সমাজে অন্যতম ভয়াবহ পাপ হলো গিবত। এটি এমন এক নীরব ঘাতক, যা মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে দেয়। কথার মাধ্যমে, ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি করে কিংবা আধুনিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লেখনীর মাধ্যমেও মানুষ সহজে গিবতের মতো বড় গুনাহে লিপ্ত হচ্ছে। অথচ এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং হাক্কুল ইবাদ সম্পর্কিত অপরাধ। তাই তাওবার পাশাপাশি যাকে গিবত করা হয়েছে, তার কাছ থেকেও ক্ষমা চাওয়া জরুরি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কারো অনুপস্থিতিতে এমন কোনো দোষ আলোচনা করাকে গিবত বলা হয়, যা সে অপছন্দ করে। এটি এতই জঘন্য যে কোরআনে একে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, গিবতের একটি বাক্য যদি সমুদ্রে ফেলা হয়, তবে সমুদ্রের পানিও দূষিত হয়ে যাবে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, আজ মানুষ চায়ের দোকান থেকে মসজিদ পর্যন্ত অবলীলায় গিবত করছে।
গিবত শুধু বলা নয়, শোনাও মহাপাপ। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তাঁর আয়াত নিয়ে ব্যঙ্গ করে বা অন্যের সমালোচনায় লিপ্ত হয়, তাদের থেকে দূরে থাকতে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মেরাজের রাতে নবীজি (সা.) দেখেন, কিছু মানুষ তামার নখ দিয়ে নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুক আঁচড়াচ্ছে—এরা ছিল দুনিয়ায় গিবতকারী।
কেউ গিবত করে ফেললে প্রথম করণীয় হলো আন্তরিক তাওবা। একই সঙ্গে যাকে গিবত করা হয়েছে, তার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে হবে এবং প্রয়োজনে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন প্রকৃত অভাবী সে-ই হবে, যে নামাজ, রোজা ও জাকাতের আমল নিয়ে আসবে, কিন্তু গিবত, অপবাদ ও অন্যের অধিকার হরণ করার কারণে তার নেকি অন্যদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হবে।
গিবত সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে, মানুষের সম্মান ধ্বংস করে এবং আখিরাতের সব নেক আমল শেষ করে দেয়। তাই প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব হলো নিজের জবানকে নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যের দোষ না খোঁজা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ