
ধূমপান শুধু ধূমপায়ীর জন্য নয়, আশপাশে থাকা অধূমপায়ীর জন্যও ভয়াবহ ক্ষতিকর—এটিই পরোক্ষ ধূমপান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা ধূমপান না করলেও পরিবার বা জনসমাগমস্থলে ধূমপায়ীর সংস্পর্শে এসে এ বিপদের বড় শিকার হয়। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা বলছে, পরোক্ষ ধূমপান শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে।
পিয়ার-রিভিউ জার্নাল রেসপিরেটরি রিসার্চ এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো পরোক্ষ ধূমপান। গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজেস ২০২১-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ শিশু নিয়মিত পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। শুধু ২০১৯ সালেই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ৭ শতাংশ মৃত্যুর পেছনে দায়ী ছিল এ সমস্যা। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, জন্মের পর ওজন কমে যায় এবং অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণা বলছে, পরোক্ষ ধূমপান শিশুদের হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, কানের সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাসের কারণ হতে পারে। এমনকি আণবিক গবেষণায় দেখা গেছে, ধোঁয়ার সংস্পর্শ শিশুদের ডিএনএ পরিবর্তন ঘটিয়ে ভবিষ্যতে রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
পরোক্ষ ধূমপানের সবচেয়ে বড় উৎস হলো পরিবার। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা বা অভিভাবকের ধূমপান শিশুকে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। যদিও জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন আছে, তবু বাড়ি, গাড়ি কিংবা ব্যক্তিগত জায়গায় এসব কার্যকর হয় না। এছাড়া দারিদ্র্য, জনাকীর্ণ বাসস্থান, সচেতনতার অভাব ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এ ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর সুরক্ষায় ঘরোয়া ও জনসমাগমস্থল উভয় জায়গাতেই শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ধূমপায়ীদের উচিত খোলা জায়গায় পরিবারের সদস্যদের থেকে দূরে গিয়ে ধূমপান করা। একই সঙ্গে গর্ভবতী নারীদের ধূমপানের ধোঁয়া থেকে কঠোরভাবে দূরে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্য জরিপ ও নীতিমালায় শিশুদের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরিবারকে সচেতন করা এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরোক্ষ ধূমপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি শিশুদের জন্য মৃত্যুর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিকাশগত প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ