প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:২১ পিএম

ফাইল ছবি
ভারতের মধ্যপ্রদেশে সরকারি চাকরি হারানোর ভয়ে নবজাতক সন্তানকে জঙ্গলে ফেলে পাথরচাপা দিয়ে রেখেছিলেন এক দম্পতি। অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি।
সম্প্রতি ছিন্দওয়াড়া জেলার নন্দনওয়াড়ি জঙ্গলে এ ঘটনা ঘটে। ভোরে কান্নার শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তারা জানান, প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো পশুর বাচ্চা কাঁদছে। পরে কাছে গিয়ে দেখতে পাই, একটি পাথরের নিচ থেকে ছোট্ট হাত নড়ছে। পাথর সরাতেই রক্তাক্ত, শীতে কাঁপতে থাকা নবজাতককে পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, শিশুটি সরকারি স্কুলশিক্ষক বাবলু দান্ডোলিয়া এবং তাঁর স্ত্রী রাজকুমারীর চতুর্থ সন্তান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকায় তারা গোপনে সন্তান জন্ম দেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজকুমারী বাড়িতেই সন্তানের জন্ম দেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে জঙ্গলে ফেলে আসেন।
ছিন্দওয়াড়া জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, নবজাতকের শরীরে পিঁপড়ার কামড়ের দাগ ছিল এবং সে হাইপোথারমিয়ায় ভুগছিল। চিকিৎসকরা বলেন, এই পরিস্থিতিতে তার বেঁচে যাওয়া একেবারেই অলৌকিক ঘটনা। বর্তমানে শিশুটি নিরাপদে রয়েছে এবং তাকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাবলু ও রাজকুমারীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (বিএনএস) ৯৩ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কল্যাণী বারকাডে জানিয়েছেন, ‘খুনের চেষ্টা’ হিসেবে ধারা ১০৯ যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে নবজাতক পরিত্যাগের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে মধ্যপ্রদেশে। দারিদ্র্য, সামাজিক লজ্জা এবং চাকরিসংক্রান্ত পুরনো ধারণার কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো