
সংগৃহীত ছবি
খাগড়াছড়িতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া অস্থির পরিস্থিতি ও পরবর্তীতে সংঘাতময় অবস্থার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
আজ বুধবার (১ অক্টোবর) ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, খাগড়াছড়ির ঘটনার পর পুলিশ শয়ন শীল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগের সময়ে তাকে বাজারের দোকানে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। এছাড়া মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান চিকিৎসক ডা. জয়া চাকমার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং ধর্ষণের প্রমাণও মেলেনি। প্রতিবেদনে পরীক্ষার সব সূচক ‘স্বাভাবিক’ দেখানো হয়েছে।
এমন পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ডাকসু বলছে, “যদি ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণিত হয়, তবে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, যদি এটি সাজানো বা পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
সমবেদনা প্রকাশ করে ডাকসু জানায়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবরোধ, অ্যাম্বুলেন্সে হামলা, দোকান ভাঙচুর, লুটপাট, ঘরবাড়ি পোড়ানো, পর্যটক হয়রানি এবং জাতিগত সংঘাত উসকে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সাম্প্রতিক সহিংসতায় আথুই মারমা, আথ্রাউ মারমা ও তৈইচিং মারমা নামে তিনজন নাগরিক নিহত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। ডাকসু এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
ডাকসু অভিযোগ করেছে, প্রশাসনের ব্যর্থতা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উসকানি মিলেই পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালীসহ সাধারণ জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ন্যায়বিচারের পথ ব্যাহত হচ্ছে।
বিবৃতির শেষাংশে ডাকসু স্মরণ করিয়ে দেয়, বাংলাদেশ কোনো একক জাতিগোষ্ঠীর নয়; বরং এটি সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। তাই দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ডাকসু।