প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫, ১:২২ পিএম

সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন সুব্রত মণ্ডল (৩২) নামে এক জেলে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল খালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। রাত ১১টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সুব্রত খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকার কুমুদ মণ্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন বনজীবী ছিলেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কাঁকড়া ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ঢাংমারী স্টেশন থেকে অনুমতি পত্র (পাস) নিয়ে সুব্রতসহ পাঁচজনের একটি দল সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরতে যান। ফেরার পথে করমজল খাল সাঁতরে পার হওয়ার সময় হঠাৎ একটি কুমির সুব্রতকে টেনে নিয়ে যায়।
সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও সফল হননি। স্থানীয় গ্রামবাসী ও বন বিভাগের সদস্যরা একযোগে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালান। অবশেষে রাত ১১টার দিকে ঢাংমারী এলাকার এক যুবক আলম খালের পাশে সুব্রতের মরদেহ খুঁজে পান।
সুব্রতের সহযাত্রী জুয়েল সরদার, জয় সরকার ও স্বপন বিশ্বাস জানান, ঘটনার সময় তারা সকলে খাল পার হচ্ছিলেন। অন্যরা নিরাপদে পার হলেও ছোটখাটো গড়নের সুব্রত একটু পিছিয়ে পড়েন। সেই মুহূর্তে একটি বড় কুমির হঠাৎ করে পানির নিচ থেকে উঠে এসে তাঁর পা কামড়ে ধরে। তিন মিনিটেরও বেশি সময় চারজনে মিলে টানাটানি করেও তাঁকে রক্ষা করা যায়নি।
সুব্রতের পরিবারে স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে একজন কন্যার বিয়ে হয়ে গেছে। বাকি তিন সন্তান এখনও ছোট। পরিবারটি একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে বিপদের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বনজীবীরা জানান, করমজল খাল এলাকায় মাঝেমধ্যেই কুমিরের আক্রমণ ঘটে। গত বছরও একই এলাকায় মোশাররফ নামে এক জেলে কুমিরের শিকার হয়েছিলেন। এই এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যাওয়া বনজীবীদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হয় প্রতিনিয়ত।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম