প্রকাশ: বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম আপডেট: ০১.১০.২০২৫ ১:৩৪ PM

শেষ পর্যন্ত শাটডাউন এড়াতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। বাজেট নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতানৈক্যের কারণে দেশটিতে ফেডারেল সরকারের বেশ কিছু কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকে এই শাটডাউন কার্যকর হয়।
২০১৮-১৯ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র শাটডাউনের মুখে পড়ল। এটি দেশটির ইতিহাসে ১৫তম শাটডাউন।
শাটডাউনের কারণে অপ্রয়োজনীয় খাতের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আকাশপথ নিয়ন্ত্রণের মতো জরুরি খাতগুলো চালু থাকবে। এসব খাতে কর্মরতরা আপাতত বেতন পাবেন না।
বলা হচ্ছে, এই শাটডাউনের ফলে বহু ফেডারেল কর্মচারীকে বাধ্য হয়ে বেতন ছাড়া ছুটিতে যেতে হবে। অনেক সরকারি সেবা, যেমন গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ভিসা ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজও বিলম্বিত হবে।
মার্কিন সিনেটে বাজেট বিল পাসের জন্য প্রয়োজন ছিল অন্তত ৬০ ভোট। কিন্তু রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত বাজেট বিল ৫৫-৪৫ ভোটে ব্যর্থ হয়। একইভাবে ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবিত বিলও পাস হয়নি।
রিপাবলিকানরা খরচ কমানোর পক্ষে থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় বাজেট বরাদ্দ দিতে চেয়েছিল। এই দ্বন্দ্ব মেটাতে না পারায় সময়মতো বাজেট পাস হয়নি, ফলে শাটডাউন শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি অর্থবছরের শুরু ১ অক্টোবর থেকে। এ সময়ের মধ্যে বাজেট পাস না হলে ফেডারেল সরকার অনেক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ বরাদ্দ পায় না। ফলে অনেক সংস্থা কার্যক্রম চালাতে পারে না এবং শাটডাউন ঘটে।
এর প্রভাব পড়ে সরকারি কর্মচারী, সাধারণ নাগরিক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দেশের অর্থনীতির ওপর। ২০১৮-১৯ সালের সর্বশেষ শাটডাউন স্থায়ী হয়েছিল ৩৫ দিন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে মানুষের সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয় এবং এটি অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, ওয়াশিংটন পোস্ট