
সংগৃহীত ছবি
খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তিন মারমা যুবক। আহত হয়েছেন সেনাবাহিনীর ১৩ সদস্য, পুলিশের তিন সদস্য এবং আরও অনেকে। অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত হয়েছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে ডাকা অবরোধ চলাকালে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘাত চলাকালে গুইমারার রামসু বাজারে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বহু ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল। এতে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বহু পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, দীঘিনালা, পানছড়ি, রামগড়, মহালছড়ি, মোট ৯ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তা তিন পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে পড়ে। ফলে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সংকট দেখা দেয়। জনভোগান্তি চরমে পৌঁছে যায়।
যদিও মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে অবরোধ আংশিক শিথিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও খাগড়াছড়ি থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। কেবল শহরের ভেতরে ব্যাটারি চালিত টমটম চলাচল করছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, “জননিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা বলবৎ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হলে তা প্রত্যাহার করা হবে।”
সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমকে বলেন,‘খাগড়াছড়ির ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে পাহাড়কে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র করছে ইউপিডিএফ। এটি একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, যার প্রভাব তিন পার্বত্য জেলায় পড়তে পারে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীর গাড়িতে হামলা চালিয়ে তিন সদস্যকে আহত করা হয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের জড়ো করে সংঘর্ষ উসকে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে রক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
এদিকে এখনও খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অবরোধ আংশিক শিথিল হলেও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ। শহরে প্রবেশ বা বের হতে তল্লাশি চলছে। জনভোগান্তি বাড়ছে। তবে প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো