প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:২৫ পিএম আপডেট: ৩০.০৯.২০২৫ ৩:৫২ PM

রাজধানীর আফতাবনগরে আলোচিত ইউটিউবার ও অভিনেতা হিরো আলমের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হাঁটতে বের হলে একদল দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালায়। তারা নির্মমভাবে হিরো আলমকে পেটাতে থাকে, যার ফলে তার মাথা ফেটে যায়, বুকের মধ্যে প্রচণ্ড আঘাত লাগে এবং দুই হাতে কোপের চিহ্ন পড়ে। ঘটনাস্থলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। শুরুতে সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসার সুবিধার্থে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পর হিরো আলমের স্ত্রী রিয়া মনি অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “যেভাবে হিরো আলমকে মারা হয়েছে, আরেকটু হলে সে মারা যেত। মানুষজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ায় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে।” রিয়া মনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এটি কেবল সাধারণ মারধর নয়; পূর্ব শত্রুতা কিংবা গভীর ষড়যন্ত্রের ফলেই তার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন এবং বলেন, “এভাবে কাউকে বিনা কারণে মারা হয় না। নিশ্চয়ই পরিকল্পিতভাবে তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে এভাবে হামলা করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সময় নিচ্ছে। বাড্ডা থানার আফতাবনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সোহেল রানা গণমাধ্যমকে জানান, তারা প্রথমে গণমাধ্যমের মাধ্যমেই ঘটনার খোঁজ পান। এখনো সঠিক স্পট নির্ধারণের চেষ্টা চলছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের এই মন্তব্য সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি করেছে, কারণ এরকম আলোচিত হামলার ঘটনায় পুলিশের আরও দ্রুত ও সক্রিয় পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হিরো আলমের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন তিনি, তার মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ছেঁড়া টি-শার্ট পরা অবস্থায় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যান্ডেজ বাঁধা দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজনকে আহত হিরো আলমকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলতে দেখা যায়। এসব দৃশ্য জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে একজন পরিচিত শিল্পী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব যদি এভাবে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হতে পারেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
এদিকে, ফেসবুক লাইভে রিয়া মনি ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজনৈতিক কারণে এই হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, “সে তো রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছে। আমিও রাজনীতি পছন্দ করি না। তাহলে তার ওপর হামলার মানেটা কী?”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ