
ফাইল ছবি
বাজারে সব ধরনের ডালের দাম বাড়তি। গত এক মাসে দেশি মসুর, অ্যাংকর ও ছোলার ডাল কিনতে ক্রেতাদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, রমজানে সমালোচনার ঝুঁকি এড়াতে বড় ব্যবসায়ীরা আগেই দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। তবে আমদানিকারকদের দাবি, বৈশ্বিক সংকটের কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে, রমজানের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
সাধারণভাবে দেখা যায়, রমজানের সময় ডালের দাম বেড়ে যায়। তবে রোজা শুরু হতে এখনো চার-পাঁচ মাস বাকি, এরই মধ্যে ডালের দাম বাড়ছে। যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, এখন দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তাই কেন এই মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজকুনিপাড়া, মোহাম্মদপুর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে জানা যায়, দেশি ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। এক মাস আগে এই ডাল বিক্রি হচ্ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়। ফলে এক মাসে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। অন্যদিকে, বড় দানার আমদানি মসুর ডালের দাম এখনো ৯৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
এক মাস আগে ছোলার দাম ছিল প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, যা এখন দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১১৫ টাকায়। অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এর ফলে ছোলার ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে, যা আগের তুলনায় ৫ টাকা বেশি।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, অ্যাংকর ডালের বর্তমান বাজারদর ৭৫ টাকা, যেখানে আগে এর দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ফলে দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা। তবে মুগ ডালের ক্ষেত্রে সামান্য কমতির প্রবণতা দেখা গেছে। এখন প্রতি কেজি মুগ ডাল কিনতে লাগছে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, এক মাসে দেশি মসুর ডালের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ এবং ছোলার ডাল বেড়েছে ৫ শতাংশ।
কারওয়ান বাজারে অবস্থিত তুহিন জেনারেল স্টোরের মালিক রায়হান বলেন, গত এক মাস ধরে প্রায় সব ধরনের ডালের দাম বাড়ছে। রমজানের সময় মূল্যবৃদ্ধি করলে ভোক্তা অধিকার সংস্থা বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। এ কারণে তারা আগেই দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে, যেন তখন সমালোচনা এড়ানো যায়।
মিল মালিক ও আমদানিকারকরা জানাচ্ছেন, দেশীয় উৎপাদিত ডালে সর্বোচ্চ দুই মাস বাজারের চাহিদা মেটানো যায়। বাকি ১০ মাস আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আগে সিরিয়া, তুরস্ক ও ভারত থেকে ডাল আমদানি করা হলেও এখন সেসব উৎস বন্ধ। বর্তমানে মূলত অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে ডাল আসছে। সংকট আরও বাড়লে মিয়ানমার থেকেও কিছু পরিমাণে আমদানি করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের জনগণের খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন গড়ে ৪৫ গ্রাম ডালের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে প্রতি বছর মসুর, অ্যাংকর, ডাবলি ও ছোলা মিলে ডালের মোট চাহিদা ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লাখ টন, ফলে প্রায় ৬০ শতাংশ ঘাটতি থাকে। এই ঘাটতি পূরণে প্রতিবছর প্রায় ১৭ লাখ টন ডাল আমদানি করতে হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো