প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৫৫ পিএম আপডেট: ২৭.০৯.২০২৫ ১:৫৯ PM

সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ইসরায়েলকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি এই স্বীকৃতিকে ইসরায়েলের গলায় ছুরি ধরার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
গতকাল শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণকালে নেতানিয়াহু বলেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়ে আপনারা আসলে ইহুদি হত্যাকে সমর্থন করছেন। একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাদের গলায় ছুরি ধরে থাকবে, তা আমরা কখনও মেনে নেবো না।”
তবে তিনি বক্তব্য শুরু করলে সাধারণ পরিষদের অধিকাংশ রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক মিলনায়তন ত্যাগ করেন।
ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “নিষ্ঠুর মিডিয়া আর ইহুদিবিরোধী মবের মুখোমুখি হওয়ার সাহস আপনাদের নেই। তাই আপনারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে হামাসকে পুরস্কৃত করছেন এবং ইসরায়েলকে আত্মহত্যার পথে ঠেলছেন। কিন্তু আমরা এটি কখনও মানব না।”
গত সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে বৈশ্বিক সম্মেলনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জোরালো হয়। এ সময় এবং পরবর্তী সময়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও লুক্সেমবার্গসহ একাধিক দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একইসঙ্গে পশ্চিম তীর দখল কার্যক্রম বন্ধ ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের দাবিও ওঠে।
তবে নিজের ভাষণে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব নিয়ে কিছু বলেননি নেতানিয়াহু। বরং তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট ও পশ্চিম তীরের সরকারকে ‘আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেন।
প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নেতানিয়াহু দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিরোধী। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ অভিযান থামাতে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি পদক্ষেপ নেননি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আদেল আতিয়েহ বলেন, “জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর এই ভাষণ একজন পরাজিত মানুষের জবানবন্দি ছাড়া আর কিছু নয়।”
সূত্র : এএফপি
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম