প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:০৫ AM

বাংলাদেশে বিয়ের আয়োজন মানেই উৎসবমুখর পরিবেশ, আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনা আর গ্রামীণ ঢঙে মাইক বাজিয়ে বরযাত্রা। তবে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কাঠাদিয়া-শিমুলিয়ার কামাল হোসেন তার দ্বিতীয় বিয়েকে সাজালেন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমভাবে। স্ত্রী অন্যের সঙ্গে চলে যাওয়ার শোক কাটিয়ে মাত্র দেড় মাসের মাথায় ছোট কন্যাকে কোলে নিয়েই হেলিকপ্টারে চড়ে নতুন বউকে ঘরে তুললেন তিনি।
কামাল হোসেন পেশায় একজন সার্ভেয়ার। প্রায় এক যুগ ধরে সংসার করছিলেন স্ত্রী সাথী আক্তারের সঙ্গে। সংসারে দুই সন্তানও রয়েছে। কিন্তু গত ১০ আগস্ট হঠাৎ করেই স্ত্রী সাথী সন্তানদের ফেলে অন্য এক বিবাহিত যুবকের সঙ্গে চলে যান এবং পরবর্তীতে কামালকে তালাক দেন।
এমন ঘটনায় সাধারণত কেউ ভেঙে পড়েন, দীর্ঘ সময় হতাশায় ভোগেন। কিন্তু কামাল বেছে নিলেন উল্টো পথ। তিনি ঠিক করলেন, জীবনের আঘাতে হার মানবেন না। তাই সন্তানকে নিয়েই নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার দুপুরে ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে হেলিকপ্টারে নতুন শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সেখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে নববধূকে ঘরে তোলেন।
হেলিকপ্টারের গর্জন শুনে আশপাশের শত শত মানুষ ছুটে আসেন এই অভিনব বরযাত্রা দেখতে। গ্রামীণ মাঠে সিনেমার দৃশ্যের মতো দৃশ্যপট তৈরি হয়। জানা যায়, তিনি চাঁদপুর থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা খরচ করে কপ্টার ভাড়া করেছিলেন। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ধোপাবাড়ি মাঠে অবতরণ করে বিয়ে সেরে ১০ মিনিটের উড়ানেই কনের বাড়িতে পৌঁছে যান তিনি।
কামাল বলেন, “পুরুষ নির্যাতনের কথা সমাজে কমই বলা হয়। সংসারে কোনো অভাব ছিল না, তবু স্ত্রী পালিয়ে যায়। তখনই ঠিক করি, ভেঙে পড়ব না। নতুন করে জীবন শুরু করব।” নতুন স্ত্রী ও তার পরিবারও সন্তানদের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন বলে জানান তিনি।
এই ব্যতিক্রমী বিয়ে শুধু কামালের জীবনে নতুন অধ্যায় নয়, বরং গ্রামের মানুষের কাছে এটি ছিল অপ্রত্যাশিত আনন্দের খোরাক। অনেকের চোখে তিনি হয়েছেন জীবনের কঠিন আঘাত সামলে দাঁড়ানোর এক অনন্য প্রতীক।
আপনি কি চান আমি এই ঘটনাটিকে সামাজিক বিশ্লেষণধর্মী ফিচার স্টাইলে আবার লিখে দিই? এতে পাঠকের কাছে ঘটনাটি শুধু খবর নয়, বরং সমাজ-সংস্কৃতির প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ