প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:০৪ পিএম আপডেট: ২৫.০৯.২০২৫ ৯:০৭ PM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) “জুলাই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক সম্পর্কের পুনঃসংজ্ঞায়ন” শীর্ষক জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা-২০২৫ এর চূড়ান্ত পর্ব আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে “ফেস্টিভাল অব ইয়ুথ ২০২৫”–এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়।
প্রাথমিক পর্যায়ে জমা দেওয়া ১৮টি ধারণা থেকে ১৫টি দল সেমি-ফাইনালে তাদের নীতি প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সেখান থেকে পাঁচটি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে।
প্রধান অতিথি শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক জন আন্দোলন, যা নেতা বা ম্যানিফেস্টো ছাড়া সংগঠিত হয়ে সকল স্তরের মানুষকে কর্তৃত্ববাদী শাসন ও বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে একত্রিত করেছিল। ১৫ বছরের বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ঐ অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। এই প্রতিযোগিতা প্রমাণ করেছে যে, নতুন প্রজন্ম ভারসাম্যমূলক বৈদেশিক নীতি চায়। যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘দেশে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং বৈদেশিক নীতিতে পারস্পরিক লাভবান হওয়ার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘কেউ পরিবর্তন করে দেবে না, আমাদের নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল তা বজায় রাখতে হবে। একবছর না যেতেই বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা মানুষকে হতাশ করছে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ও শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের অতিরিক্ত পরিচালক আমিনা ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন।
চূড়ান্ত পর্বে খুরশিদা খান তৃষা, সুমাইয়া জাহান সামান্তা ও শমরিতা বড়ুয়ার দল চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। প্রথম রানার-আপ হয় হুমায়রা তাসনিম শাম্মী, শরীফ মেহেরব হোসেন জিদান ও তাসনিম কাদেরের দল, এবং দ্বিতীয় রানার-আপে থাকে সামিহা আক্তার সালমা, সুমাইয়া আক্তার ও মির্জা সাকিরের দল। বিজয়ী দলগুলো নগদ অর্থ পুরস্কার, স্মারক ও লকেট সহ জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম