প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৭ পিএম আপডেট: ২৫.০৯.২০২৫ ৪:০৫ PM

ঢাকা ব্যাগ কারখানায় বাকবিতণ্ডার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের দাঁতমন্ডল গ্রামে খুন হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িতে চলছে অবাধ লুটপাট, ভাঙচুর। গ্রেপ্তার এড়াতে এবং পাল্টা হামলার ভয়ে পুরুষশূন্য পুরো এলাকা। নারী ও শিশুদের নিয়ে গ্রাম ছেড়েছে বহু পরিবার।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের পথে পথে ছড়িয়ে আছে ভাঙা কাচ, আর
লন্ডভন্ড আসবাবপত্র।
প্রতিপক্ষ লোকজনের দাবি, নিহত ব্যক্তির পরিবারের লোকজনের নেতৃত্বে দফায় দফায় তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। তাদের লোকজন ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছেন না। হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক দফায় তাদের ১০টি বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আমির আলীর চাচাতো ভাই সুজন (২২) ও সাফিল উদ্দিনের ছেলে শাকিল (৩০) ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি ব্যাগ কারখানায় কাজ করতেন। কিছুদিন পূর্বে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর সূত্র ধরে গত ২১ সেপ্টেম্বর গ্রামের বাড়িতে গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। গতকাল বুধবার বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিস বসে। সালিস চলাকালীন সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন আমির আলী, পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দাঁতমন্ডল গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে সুলতানা আক্তার বলেন, “আমির আলী নিহত হওয়ার পর তার
আত্মীয়দের নেতৃত্বে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, ৮ টি গরু, ৪ টি ছাগলসহ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে। এখনো হুমকি দিচ্ছে, আমরা আতঙ্কে আছি, বাড়িঘরে থাকতে পারতেছি না।”
ভাঙচুর, লুটপাট ও হুমকির বিষয়ে নিহত আমির আলীর চাচাতো ভাই সুজন বলেন, “আমরা লাশ নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে ছিলাম, কে বা কারা লুটপাট ভাঙচুর করেছে এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।”
নাসিরনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ বলেন, “দাঁতমন্ডলে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের অতি উৎসাহী কিছু লোকজন প্রতিপক্ষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট করেছে। আমরা ঘটনাস্থলে আসার পর পরিবেশ স্বাভাবিক। ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয় অভিযোগ দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”