প্রকাশ: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:০৫ AM

আগে বর্ষায় প্রতিটি ঘরে ঘরে দারকি থাকতো
এক সময় বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গ্রামীণ জনপদে মাছ ধরার জন্য ব্যবহার হতো দারকি (এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার ফাঁদ)। বর্ষা মৌসুম এলেই বিল, জলাশয়, ধানক্ষেতে এই দারকি বসিয়ে মাছ ধরতেন কৃষক ও জেলেরা।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক ফিশিং নেট, কারেন্ট জাল, জালিকৃতি বাঁধ, বিষ প্রয়োগ, ও জলাশয়ের সংকটের কারণে এখন আর আগের মতো দারকি দিয়ে মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গ্রামীণ এলাকার নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নয়।
স্থানীয় প্রবীণরা বলেন, “আগে বর্ষায় প্রতিটি ঘরে ঘরে দারকি থাকতো। সন্ধ্যায় বসিয়ে সকালে মাছ তোলা হতো, এখন এসব স্মৃতিমাত্র।”
ধুনটের ভান্ডারবাড়ি গ্রামের সোহেল রানা বলেন, “ছোটোবেলায় বাবার সাথে দারকি বসাতে যেতাম, আর এখনকার ছেলেরা জানেই না দারকি কী।”
ধুনট উপজেলার স্থানীয় হাট-বাজারে দারকি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা ধিরেন্দ্রনাথ দাস (৬০) বলেন, “আগে সপ্তাহে ১৫-২০টা দারকি বিক্রি হতো, এখন মাসে ৪-৫টাও যায় না। লোকজন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এখন সবাই চায়না জাল কিনে মাছ ধরে।”
দারকি বিক্রেতা দূতি রাম দাস (৫৫) বলেন, “এখন সবাই আধুনিক চায়না জাল ব্যবহার করে। দারকি বানাতে সময়ও লাগে বেশি। দামও খুব কম দিয়ে কিনতে চায় মানুষ, তাতে লাভ হয় না। খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। অনেক বছর যাবৎ এই পেশার সাথে জড়িত আছি তাই সহজেই ছাড়তে ও পারছি না। ”
তাদের মতে, দারকি শুধু মাছ ধরার উপকরণ নয়, এটি গ্রামীণ জীবনের সংস্কৃতির একটি অংশ। তাই এই পেশাকে টিকিয়ে রাখতে চাই স্বীকৃতি ও সহায়তা।