
১৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীকে অনলাইন ও অফলাইনে অন্তর্ভুক্ত করে এ জরিপ পরিচালিত হয়
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তিতে শিক্ষার্থীদের পরিচালিত এক জরিপে অকৃতকার্য হয়েছেন। ইবি সংস্কার আন্দোলনের উদ্যোগে পরিচালিত এ জরিপে তিনি ১০ এর মধ্যে গড়পড়তা মাত্র ২.৪৫ নম্বর অর্জন করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে সংগঠনটি। ১৮ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীকে অনলাইন ও অফলাইনে অন্তর্ভুক্ত করে এ জরিপ পরিচালিত হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীরা চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে উপাচার্যের কাজের মূল্যায়ন করেছেন। ১-৩ নম্বরকে খারাপ, ৪-৬ মোটামুটি, ৭-৮ ভালো এবং ৯-১০ অতি ভালো হিসেবে ধরা হয়। তাতে উপাচার্যের প্রাপ্ত গড় নম্বর পড়ে খারাপ ক্যাটাগরির মধ্যে।
জরিপে শিক্ষার্থীরা দশটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- সেশনজট নিরসন, সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার প্রক্রিয়া, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা, ইকসু গঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকীকরণ, আবাসিক হলের খাবারের মানোন্নয়ন, গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধি, মেডিকেল সেবার মান উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিবহন সংকট নিরসন।
জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশ উপাচার্যের প্রতি নেতিবাচক মতামত দিয়েছেন। অনেকেই প্রশাসনকে ‘অথর্ব’ আখ্যা দিয়েছেন এবং দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ, অনলাইন ব্যাংকিং সেবার কার্যকর বাস্তবায়ন, স্মার্ট কার্ড সংক্রান্ত ত্রুটি সমাধানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে উপাচার্যের কার্যকর পদক্ষেপ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, “গত এক বছরে উপাচার্যের কর্মদক্ষতা সন্তোষজনক নয়। তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।”
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, যদি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন সম্ভব না হয়, তবে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া উচিত। একইসঙ্গে তারা দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮৭৬ জন আবাসিক এবং ৪৩৬ জন অনাবাসিক। শিক্ষাবর্ষভিত্তিক অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হলো- ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৬ জন, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ৮০ জন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ১৮১ জন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৩৪৫ জন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ২৯৩ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ২৩৪ জন এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১৩৩ জন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “আমাকে শূন্য দিলেও আপত্তি নেই। আমি আমার অবস্থান থেকে কাজ করে যাব। আমার সব কাজের মধ্যেই স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের এ জরিপ কোনো বিচার মাপকাঠি হতে পারে না। বিষয়টি নিয়ে আরও ব্যাখ্যা ও আলোচনার প্রয়োজন আছে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ‘জুলাই বিপ্লবে’র পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও ইবির সাবেক আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ মাসের ৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা ১৫ দফা দাবি পেশ করে ‘ইবি সংস্কার আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। সেই প্ল্যাটফর্ম থেকেই এ জরিপ পরিচালিত হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষার্থীরা আগামীকাল প্রশাসনকে সতর্কতামূলক ‘হলুদ কার্ড’ প্রদর্শনের ঘোষণা দেন।