প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৩১ AM আপডেট: ২১.০৯.২০২৫ ১:৫০ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন ও অনশনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পোষ্যকোটা বা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা স্থগিত ঘোষণা করেছে। রবিবার প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পোষ্যকোটাসহ প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নিয়ে ভর্তির সকল কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার রাত থেকে শহীদ জোহা চত্বরে পোষ্যকোটা বাতিলের দাবিতে সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী আশাদুল ইসলাম আমরণ অনশনে বসেন। তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্য শিক্ষার্থীরাও অনশনে যোগ দেন। শনিবার সকাল থেকে উপাচার্য, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টারা তাদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। দুপুরের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিন শিক্ষার্থী, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নেন।
অপরদিকে, উপ-উপাচার্য ড. মাঈন উদ্দিন প্রশাসন ভবন থেকে বাসভবনে ফেরার পথে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন। তাদের বাধায় গাড়ি আটকে যায় এবং আন্দোলনকারীরা পোষ্যকোটা বাতিলের দাবি জানান। পায়ে হেঁটে বাসভবনে যাওয়ার চেষ্টা করলে গেট তালাবদ্ধ থাকায় ব্যর্থ হন। পরে তিনি জুবেরী ভবনে আশ্রয় নেন, সেখানে শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একত্রিত হয়; ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, বাম দলসহ অন্যান্য সংগঠন ও নারী শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণ করেন। রাত ১টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত ঘোষণা পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে।
অন্যদিকে, শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনার অভিযোগ তোলায় তারা ২১ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেন এবং দাবি আদায় না হলে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম