প্রকাশ: রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৩৬ AM

নরসিংদী জেলায় টানা ১০ দিনে অন্তত সাতটি হত্যাকাণ্ড ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সংঘটিত এই খুনোখুনির পাশাপাশি গোলাগুলি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাতের অন্ধকারে বাইরে বের হওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে গতকাল ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রায়পুরা, শিবপুর, মুরাদনগর ও সদর উপজেলায় ঘটেছে ভয়াবহ ঘটনা।
৮ সেপ্টেম্বর রায়পুরার সমীবাদ গ্রামে বিরোধের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কৃষক দুলাল মিয়া (৪৫)। একই ঘটনায় আহত হন একজন কিশোর ও কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়।
১০ সেপ্টেম্বর শিবপুরে পানি নিষ্কাশন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাই সোহাগ (৪০) ও রানা (৩৫) চাচার হাতে নিহত হন।
১৪ সেপ্টেম্বর রায়পুরায় ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কলহে মানিক মিয়ার স্ত্রী শিউলি আক্তার (৩০) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই দিনে মুরাদনগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলিতে ইদন মিয়া (৬০) নিহত হন ও অন্তত পাঁচজন আহত হন।
১৯ সেপ্টেম্বর নরসিংদী সদর আলোকবালীতে জুমার নামাজের সময় প্রতিপক্ষের গুলি ও কুপিতে গৃহবধূ ফেরদৌসি আক্তার (৩৫) নিহত হন।
পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড পারিবারিক কারণে সংঘটিত হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় মামলা দায়ের ও তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বসে নেই, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের হাত রয়েছে। তারা বলেন, পুলিশ প্রয়োজনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
জেলা বাসীর প্রশ্ন এখন একটাই- নরসিংদী কি আর নিরাপদ থাকবে? জনজীবনে ফিরে আসবে শান্তি ও স্বাভাবিকতা, নাকি ভয় আর অনিশ্চয়তা থাকবে ভবিষ্যতেও?
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম