
ফাইল ছবি
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের প্রায় ১১ কোটি টাকার দুটি অত্যাধুনিক ল্যাব মেশিন এক বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যবহৃত হয়নি।
একইভাবে সেন্টার ফর সফস্টিকেটেড ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরির (সিএসআইআরএল) ৫ কোটি টাকার একটি যন্ত্রে বছরে মাত্র ২৫টি স্যাম্পল পরীক্ষা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ল্যাবের জন্য প্রয়োজনীয় বিদেশি প্রশিক্ষণ ও কেমিক্যাল সরবরাহ করা হয়নি। পাশাপাশি যন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কমিশন নেওয়া, নিয়ম বহির্ভূতভাবে অডিট কর্মকর্তার জোর করে স্বাক্ষর করানোর মতো অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে।
২০২৩ সালের আগস্টে যবিপ্রবি জিনোম সেন্টার এনজিএস (নেক্সট জেনারেশন সিকুয়েন্সিং) ও কনফোকাল মাইক্রোস্কোপ গ্রহণ করে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ দুটি মেশিনে হয়নি কোনো পরীক্ষা। এনজিএস মেশিন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় কেমিক্যালও সরবরাহ করা হয়নি।
অন্যদিকে সিএসআইআরএল ল্যাবের ৫ কোটি টাকার এলসি-এমএস (লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি-মাস স্পেকট্রোমেট্রি) প্রতিদিন ১০-১২টি স্যাম্পল টেস্ট করার সক্ষমতা রাখলেও এক বছরে সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ২৫-৩০টি পরীক্ষা। এ যন্ত্রের ফলাফলের নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গবেষকরা। এছাড়া অ্যামিনো অ্যাসিড অ্যানালাইজার মেশিনটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালিদ হাসান বলেন, কোটি টাকার যন্ত্র কিনে ব্যবহার না করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। কেনাকাটায় কমিশন নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট দুর্নীতি। প্রতিটি টেস্টে কমিশনের কারণে গবেষণার খরচ অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ল্যাব যন্ত্রপাতি মেরামত না করায় গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমও থমকে যাচ্ছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী নাজমুস সাকিব বলেন, এই মাসের শেষের দিকে কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। কমিশন গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আর অডিট অফিসারের সঙ্গে ঘটনাটি এক বছর আগের, এখন সেটি সামনে আনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জিনোম সেন্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মো. আলাউদ্দিন জানান, কনফোকাল মাইক্রোস্কোপ সচল থাকলেও স্যাম্পল না আসায় টেস্ট হয়নি। এনজিএস চালু করতে রিএজেন্ট দরকার, যা সরবরাহকারী কোম্পানিকে জানানো হয়েছে। কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের কমিশন দেওয়া হয়।
সিএসআইআরএল এর ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, এলসি-এমএস একটি ব্যয়বহুল টেস্ট। স্যাম্পল না আসলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আমরা শিক্ষকদের স্যাম্পল পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, যন্ত্রপাতি সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। এ মাসের শেষে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য একটি দল পাঠানো হবে। তবে বিদেশ থেকে যন্ত্র আমদানির কারণে মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পার্টস সহজলভ্য নয়, তাই সময় লাগে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো