
ফাইল ছবি
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদ্রাসাতে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি। কাগজে কলমে দেখানো হচ্ছে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী, কিন্তু বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে নেই একজনও। বছরের পর বছর খালি শ্রেণিকক্ষের মাঝেও নিয়মিতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পাচ্ছেন ২৬ জন শিক্ষক-স্টাফ।
এনটিআরসির শিক্ষক নিয়োগের চলমান প্রক্রিয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও সীমিত সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে, সেখানে এই মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষকসহ ২৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন শিক্ষক, ১ জন অফিস সহায়ক কাম দপ্তরী, ১ জন আয়া, ১ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ১ জন অফিস সহকারী। তাদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে বছরে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অথচ কোনো শিক্ষার্থীই নিয়মিত পড়াশোনা করে না এখানে।
কাগজে কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০ দেখানো হলেও প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। কয়েকজন শিক্ষক স্বীকার করেছেন, শিক্ষার্থী না থাকায় তারা কর্মহীন দিন পার করছেন। তদন্তে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন কওমি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেটের জন্য এখানে ভর্তি হয়। তারা মূলত কওমি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে, কিন্তু পরীক্ষার সময় এসে এই মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষা দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির সুপার মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। তিনি নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন তোলেন। আরো অভিযোগ রয়েছে, এসব শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি উপবৃত্তির টাকার একটি অংশ দিতে হয় মাদ্রাসার প্রধানকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, সুপার সপ্তাহে সর্বোচ্চ এক-দুদিন মাদ্রাসায় আসেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক আফজাল হোসেন ২০২২ সালে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত অনুপস্থিত। গত এক বছর ধরে তিনি মাদ্রাসায় না থেকেও বেতন তুলছেন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ছুটি নিয়ে কুমিল্লায় বিএড করছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তিনি ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সুপার সিদ্দিকুর রহমান জানান, আফজাল ৭ মাস আগে ছুটি নিয়েছেন। তবে পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি আম্বিয়া আক্তার বলেন, চলতি মাসে (সেপ্টেম্বর) এ একটি রেজুলেশন করা হয়েছে। অর্থাৎ এতদিন তিনি অবৈধভাবে বেতন তুলেছেন।
স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের গাফিলতির আর অনিয়মের কারণে আজকে এই মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নেই। অথচ শিক্ষার্থীহীন এই মাদ্রাসায় কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। চলতি বছরে এই মাদ্রাসায় একটি নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসা সভাপতির নজরুল ইসলামকে মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল করিম বলেন, এ ব্যাপারে আমি শুনেছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ.এস.এম. আব্দুল খালেক জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার বিরুদ্ধে একাধিকবার তদন্ত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বছরের পর বছর এ অনিয়ম চলমান রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো