
সংগৃহীত ছবি
ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায় পারিবারিক আদালত আইন, যৌতুক নিরোধ আইনসহ আটটি আইনের অধীনে আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করা যাবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বিধান অনুযায়ী, এসব মামলার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক।
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সিলেটে নতুন বিধির উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
যেসব আইনের ক্ষেত্রে সরাসরি মামলা নয়:
১. পারিবারিক আদালত আইন (২০২৩) ধারা ৫
২. বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন (১৯৯১)
৩. সহকারী জজ আদালতের বণ্টন বিরোধ
৪. স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ট্যানেন্সি অ্যাক্ট (১৯৫০) অগ্রক্রয় সংক্রান্ত বিরোধ
৫. নন-অ্যাগ্রিকালচারাল ট্যানেন্সি অ্যাক্ট (১৯৪৯) অগ্রক্রয় সংক্রান্ত বিরোধ
৬. পিতামাতার ভরণপোষণ আইন (২০১৩)
৭. যৌতুক নিরোধ আইন (২০১৮) ধারা ৩ ও ৪
৮. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (২০০০) ধারা ১১(গ) অনুযায়ী যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার কর্তৃক প্রত্যায়িত মধ্যস্থতা চুক্তি চূড়ান্ত, বলবৎযোগ্য এবং পক্ষগণের ওপর বাধ্যতামূলক হবে। আদালতে তা ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশ হিসেবে গণ্য হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল বলেন, পরবর্তী সরকার যদি পরিবর্তনটি ধরে রাখে, তাহলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য ন্যায়বিচারের সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে। আমরা সিভিল ও ক্রিমিনাল আদালত পৃথক করেছি যাতে সিভিল মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হয়। বিচারিক পদ সৃজনের ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির কাছে দেওয়া হয়েছে।
মধ্যস্থতা কার্যকর করার ক্ষেত্রে তিনি জানান, মামলা দায়েরের আগে লিগ্যাল এইডে যাওয়া বাধ্যতামূলক, নির্দিষ্ট আইনকে মধ্যস্থতার আওতায় আনা হয়েছে এবং দায়িত্বে থাকবেন সিনিয়র যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ও একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ।
তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের যুক্ত করা হয়েছে কারণ তারা অভিজ্ঞ, সম্মানীয় এবং শারীরিকভাবে সক্ষম।