
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে এবিসি উপস্থাপক জিমি কিমেলকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যেসব টিভি নেটওয়ার্ক তার বিরুদ্ধে প্রচার চালায়, তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।
আজ শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিরোধী অবস্থান নেওয়া নেটওয়ার্কগুলো হয়তো লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া হতে পারে। তিনি এবিসি টকশো হোস্ট কিমেলকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফসিসিকে সমর্থনও জানিয়েছেন।
এবিসি গত বুধবার ঘোষণা করে, কিমেলের অনুষ্ঠান ‘জিমি কিমেল লাইভ!’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। কারণ, কিমেল গত সপ্তাহে নিহত রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ককে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
কিমেল নিজের অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, হামলাকারী একজন ‘মাগা রিপাবলিকান’, যদিও উটাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বামপন্থি মতাদর্শে প্রভাবিত ছিল। এ মন্তব্যের পর এফসিসি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেয়।
যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, প্রায় ৯৭ শতাংশ নেটওয়ার্ক আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছে। তারা আমাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালায়। অথচ তারা লাইসেন্স পায়। হয়তো তাদের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়া উচিত।
এর আগে কিমেল মন্তব্য করেছিলেন, মাগা গোষ্ঠী হত্যাকারীকে অন্য কারও মতো দেখানোর চেষ্টা করছে এবং বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে।
তিনি আরও ব্যঙ্গ করে বলেন, ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া যেন চার বছরের শিশু সোনালি মাছ মারা যাওয়ার পর শোক করছে।
শুটিংয়ের পর কিমেল ইনস্টাগ্রামে কার্ক পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পরে এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার ফক্স নিউজকে বলেন, কিমেলকে বরখাস্ত করা শেষ পদক্ষেপ নয় এবং সম্প্রচারকদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার ক্ষমতা রয়েছে। তবে এফসিসির নিয়ন্ত্রণ মূলত বড় নেটওয়ার্ক পর্যন্ত সীমিত; টিভি চ্যানেল বা স্ট্রিমিং-পডকাস্টে তাদের ক্ষমতা নেই।
আইনজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে লাইসেন্স বাতিলকে বৈধ করবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় এবিসি সহযোগী সিনক্লেয়ার শুক্রবার রাত কিমেলের সময়সূচিতে চার্লি কার্ককে স্মরণ করে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।