
ব্রিটিশ লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক দ্য টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত তার আগের বক্তব্য ছিল মিথ্যা ও সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশি একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যৌথ অনুসন্ধানে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক, তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর। এছাড়া ২০১১ সালের জানুয়ারিতে তিনি বাংলাদেশি এনআইডিও পান। পাসপোর্ট অফিস ও নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেইসে এর রেকর্ড পাওয়া গেছে। উভয় নথিতেই স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ঢাকার ধানমণ্ডির বাড়ি, যা তার খালা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন।
টিউলিপ সিদ্দিক বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনো বাংলাদেশি পরিচয়পত্র পাননি এবং শৈশবের পর থেকে কোনো পাসপোর্টও ব্যবহার করেননি। এমনকি গত আগস্টে তার আইনজীবী স্টিফেনসন হারউড ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছিলেন, টিউলিপ কখনো বাংলাদেশি ভোটার আইডি বা এনআইডি পাননি।
কিন্তু নতুন নথি প্রকাশের পর তিনি ও লেবার পার্টি একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, নথিগুলো জাল এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের ষড়যন্ত্র করছে।
আইন অনুযায়ী বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি নাগরিক। টিউলিপ ব্রিটেনে জন্মালেও তার মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। তবে তিনি বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন, আমি ব্রিটিশ এমপি, আমি বাংলাদেশি নই।
বর্তমানে বাংলাদেশে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন। অভিযোগ রয়েছে—তিনি খালা শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে পরিবারের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়েছিলেন। তবে টিউলিপ একে রাজনৈতিক নিপীড়ন বলে দাবি করছেন।
দুদক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এবং দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন দ্য টাইমসকে জানিয়েছেন, টিউলিপের পাসপোর্ট, এনআইডি ও ট্যাক্স আইডির নথি তাদের হাতে রয়েছে এবং এগুলোর সত্যতা মিলেছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে টিউলিপ যুক্তরাজ্যের অ্যান্টি-করাপশন মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার পরিবারের বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক লেবার সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল। যদিও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমর্থন তিনি ধরে রাখেন।
টিউলিপের মুখপাত্র জানিয়েছেন—গত এক বছরে বাংলাদেশ কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তাদের দাবি, সবই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে দ্য টাইমসের অনুসন্ধান প্রকাশের পর টিউলিপ সিদ্দিকের নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ