প্রকাশ: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি
যশোরের জাবির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত আবরার মাশরুন নীলকে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে ‘শহীদ’ পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) যশোর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন তাঁরা।
সম্প্রতি প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যশোরের জাবির হোটেলে ৫ আগস্টের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৪ জনের মধ্যে ১৬টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তারা কেউ ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি চান না। নিহতদের অনেককে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করা হলে, প্রথম আলোর প্রতিবেদন সে দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে।
তবে নিহতদের স্বজনরা এ তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, কোনো সাংবাদিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, অথচ প্রতিবেদনে তাঁদের মতামত দেখানো হয়েছে।
নীলের মা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার নয় বছরের বাচ্চা কিভাবে দুর্বৃত্ত হলো? সে তো গিয়েছিল মানুষকে সাহায্য করতে। আগুন নেভাতে গিয়ে পুড়ে মারা গেছে। ও ছিল নিষ্পাপ শিশু। তাকে নিয়ে আর রাজনীতি করবেন না। তাকে লুটকারির কলঙ্ক দেবেন না।’
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, এই প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহীদদের স্মৃতিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিতর্কিত করতে এবং আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খান, শহীদ ইউসুফ আলীর মা শাহীনা খাতুন, শহীদ সোহানুর রহমান সোহানের বাবা আনোয়ার হোসেন লাল্টুসহ নিহতদের পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় নাগরিকরা।
এ সময় বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিক কোনো ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা না বলে তার নামে মন্তব্য ছাপালে সেটি গুরুতর নীতিবিরোধী কাজ। তারা প্রথম আলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশের দাবি জানান।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো