বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি      
টাঙ্গাইলে হলুদ চাষে ফিরবে কৃষকের সুদিন
সিরাজ আল মাসুদ, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:১৯ পিএম
এ বছর ৯৮০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ করা হয়েছে

এ বছর ৯৮০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ করা হয়েছে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মধুপুর ও সখীপুর উপজেলায় মশলা জাতীয় ফসল হলুদের চাষে ফিরবে কৃষকের সুদিন। অতিবৃষ্টি ও খরাসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে অন্য ফসলের পাশাপাশি হলুদ চাষও অধিক লাভজনক হতে পারে। তাছাড়া অল্প জমিতে কম খরচে অধিক হলুদ চাষ করা যায়।

আজ বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন জানা যায়, মধুপুর উপজেলার জয়নাতলী, ভিটুয়া, অরণখোলা, বেরিবাইদ, কুড়াগাছা, মমিনপুর, মির্জাবাড়ি, গাছাবাড়ি এলাকায় হলুদ চাষ হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে এ বছর ৯৮০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর ৭৬০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার মেট্রিক টন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হলুদ উৎপাদন হয়েছিল। কোন প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এ বছর মধুপুরে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার হলুদ বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

পাহাড়ি এলাকায় সাথী ফসল হিসেবে হলুদের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। হলুদ চাষে নিয়মিত পরিচর্যার দরকার হয়না। এ ফসলে গরু, ছাগল ও পোকা-মাকড়ের কোনো উপদ্রব নেই, ফসল হানির আশঙ্কাও কম। পরিত্যক্ত জমিতে হলুদের চাষ ভালো হয়। বাজারে মশলা জাতীয় পণ্য হলুদের চাহিদা অনেক, দামও অন্য ফসলের চেয়ে ভাল। এ কারণে ঘাটাইল, মধুপুর ও সখীপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় হলুদের আবাদ দিন দিন বাড়ছে।

উর্বরতা ও জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি হলুদ চাষের জন্য ভালো। তবে সবচেয়ে উত্তম দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ লালমাটি। জেলার ঘাটাইল, মধুপুর ও সখীপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ লালমাটি অধিক পরিমাণে রয়েছে। ফলে জেলার ওই তিন উপজেলায় মশলা জাতীয় পণ্য হলুদের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলায় তিন হাজার ২০৮ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর, বাসাইলে ২০, কালিহাতীতে ৩০, ঘাটাইলে এক হাজার ৪৫৬ হেক্টর, নাগরপুরে ৫০, মির্জাপুরে ১২৫, মধুপুরে ৯৮০, ভূঞাপুরে ১৫, গোপালপুরে ৩৭, সখীপুরে ৩৫০, দেলদুয়ারে ৮০ ও ধনবাড়ী উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, হলুদ উষ্ণ, অব-উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর ফসল। ছায়া, আধোছায়া, বৃষ্টিপাত সমৃদ্ধ পাহাড়ি অঞ্চলে হলুদ জন্মে। তবে প্রখর রোদযুক্ত জায়গায় বেশি কন্দ উৎপন্ন হয়। কম তাপমাত্রায় বা ঠান্ডায় হলুদের বৃদ্ধি কমে যায়। হলুদের স্থানীয় জাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- হরিণপালি, আদাগতি, মহিষবাট, পাটনাই, আড়ানী ইত্যাদি। তবে উচ্চফলনশীল ডিমলা ও সিন্দুরী নামে দুটি জাতের হলুদ রয়েছে। ডিমলা জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ৩ গুণ এবং সিন্দুরী জাতটি স্থানীয় জাতের তুলনায় ২ গুণ ফলন বেশি দেয়। দুটি জাতই লিফ ব্লাইট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বারি হলুদ-৩, বারি হলুদ-৪, বারি হলুদ-৫ জাতের হলুদ চাষ করে কৃষকরা আশানুরূপ ফলন পাচ্ছে।

কৃষিবিদদের মতে, হলুদকে অনেকসময় ‘মিরাকল হার্ব’ বা অলৌকিক ভেষজ বলা হয়ে থাকে। হলুদ আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি মশলা, রোজকার রান্নায় হলুদ না দিলে রান্নাটাই যেন কেমন অসম্পূর্ণ মনে হয়। মশলা জাতীয় ফসল হলুদ বাঙালি তো বটেই প্রায় গোটা এশিয়ার রান্নাতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি উপাদান। হলুদে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে এবং কারকিউমিন নামক রাসায়নিক থাকে- যা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে মানবকুলকে বাঁচায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁচা হলুদ খেলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে, খাবার ঠিকমতো হজম হয়। মশলা হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও অনেক ধরনের প্রসাধনীর কাজে ও রং শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে হলুদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এ উপজেলার মির্জাবাড়ি ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণবাড়ি গ্রামের হলুদ চাষি রেজাউল করিম, আক্তার হোসেন, নজরুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, প্রতি বছরের মত এ বছরও হলুদ রোপণ করেছেন। সাথী ফসল হিসেবে অন্য ফসলের সঙ্গে বেশিরভাগ উঁচু জমিতে হলুদ চাষ করেছেন। অন্য ফসলের তুলনায় হলুদ চাষ অনেকাংশে সহজ ও লাভজনক। প্রতি বিঘায় সব মিলিয়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ মন হলুদ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারমূল্য আশানুরূপ পাওয়া গেলে বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভের আশা দেখছেন তারা।

ভবানীটিকি গ্রামের বাপ্পি জানান, হলুদের কন্দ রোপণের পর পরিপক্ব হতে জাতভেদে ৭ থেকে ১০ মাস সময় লাগে। যখন গাছের নিচের পাতা হলুদ হয়ে আসে এবং গাছটি মরে যেতে শুরু করে তখন ফসল তোলার জন্য প্রস্তুত হয়- যা সাধারণত শীতকালে দেখা যায়। তবে হলুদ চাষে খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয় না। সার ও কীটনাশকও ব্যবহার করতে হয় খুবই কম। প্রতি বিঘা জমি হলুদ চাষের জন্য খরচ হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। উৎপাদন ভালো হলে খরচ বাদে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, হলুদ বছরব্যাপী ফসল হওয়ায় সাথী ফসল হিসেবে কৃষকরা এর আবাদ করে থাকে। হলুদে তেমন কোনো রোগবালাই নেই বললেই চলে। ফলে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। হলুদের কন্দ রোপণ থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আবাদ দেখভাল করে থাকেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ দুলাল উদ্দিন জানান, জেলার ১২টি উপজেলায় এবার তিন হাজার ২০৮ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে। জেলার পাহাড়ি অঞ্চল বা উঁচু এলাকায় সাধারণত হলুদ সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। হলুদে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি মশলা জাতীয় পণ্য। কাঁচা হলুদের ন্যূনতম ৪৬টি ভেষজগুণাগুণ রয়েছে। এবার জেলায় হলুদের বাম্পার ফলন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষকরা লাভবান হবে।


স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  টাঙ্গাইল   হলুদ   চাষ  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close