প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:২৯ পিএম আপডেট: ১৬.০৯.২০২৫ ৬:৪০ PM

নব্বইয়ের দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বনশ্রী আর নেই।
আজ সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫৫ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন বনশ্রী। মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত হয় অসুস্থতা ও নিদারুণ কষ্টের মধ্যে। তিনি রেখে গেছেন একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান রোমিওকে।
চলচ্চিত্রে বনশ্রীর উত্থান ছিল উজ্জ্বল। নব্বইয়ের দশকে ‘ভালোবাসা কখনো মরে না’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘অভিমানের আগুন’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। কিন্তু রুপালি পর্দার আলো নিভে যাওয়ার পর নেমে আসে জীবনের কঠিন বাস্তবতা। ব্যক্তিজীবনে অভাব-অনটনে জর্জরিত হয়ে পড়েন তিনি।
অবশেষে ঠাঁই হয় মাদারীপুরের শিবচরের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে। সেখানেই কাটে তার শেষ দিনগুলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাওয়া ২০ লাখ টাকার অনুদানের সুদের টাকা দিয়েই চলত সংসার।
বনশ্রী মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের শিকদারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মজিবুর রহমান মজনু শিকদার ও মা সবুরজান রিনার তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় আসেন এবং সেখান থেকেই তার অভিনয় জীবনের শুরু।
চিত্রনায়িকা বনশ্রীকে আজ শিবচর পৌরসভা গোরস্থানে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান তার মৃত্যু নিশ্চিত করে বলেন, “বনশ্রী আপা অনেক কষ্ট করে গেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”
চিত্রজগতের এক সময়ের জনপ্রিয় মুখ বনশ্রীর এমন করুণ পরিণতি সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধের প্রশ্ন তোলে। আলো নিভে গেলে তাদের পাশে দাঁড়ায় কে এই প্রশ্ন রেখে গেলেন বনশ্রী।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে