প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:১১ AM আপডেট: ১৬.০৯.২০২৫ ৫:১৩ এএম

সংগৃহীত ছবি
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ সরকারি প্রতিরক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দ্য রয়াল কলেজ অব ডিফেন্স স্টাডিজ’ ইসরায়েলি নাগরিকদের ভর্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টাইমস ও টেলিগ্রাফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত কলেজটি আগামী বছর থেকে ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের আর ভর্তি নেবে না। কলেজটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি ডিফেন্স একাডেমির অংশ এবং এখানে সশস্ত্র বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের কৌশলগত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট কোর্সে অংশ নিতে পারেন।
গত জুনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা পার্লামেন্টে জানান, কলেজটি এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘পাঁচজনেরও কম’ সদস্যকে অযুদ্ধসংক্রান্ত একাডেমিক কোর্সে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘যুদ্ধরত মিত্রের প্রতি অবিশ্বাস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বারাম নিজেও অতীতে এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “ইসরায়েলকে বহিষ্কার করা আসলে ব্রিটেনের নিরাপত্তার জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”
এর আগে ব্রিটেন গাজায় ব্যবহৃত অস্ত্রের কারণে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির কিছু লাইসেন্স স্থগিত করেছিল। তবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশের মতো কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি বড় অস্ত্র মেলায় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান রাখার চেষ্টা করছে। যদিও প্রদর্শনীতে ৫১টি ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, এর মধ্যে প্রধান অস্ত্র প্রস্তুতকারক এলবিট অংশ নেয়। এ সময় মেলার বাইরে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভ হয়।
উল্লেখ্য, লন্ডন ইতিমধ্যেই গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সাম্প্রতিক তীব্রতাকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে সমালোচনা করেছে।