প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৪০ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।
ভেতরে ও আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সিগারেটের প্যাকেট, গ্যাসলাইট, চিপসের মোড়কসহ নানান আবর্জনা। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনাটিতে জন্ম নিয়েছে গাছপালা ও সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই এখানে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা। সুযোগ বুঝে দিন ও রাতে তারা সেখানে অবস্থান নেয়। কেউ বাধা না দেওয়ায় স্থানটি তাদের জন্য নিরাপদ জায়গায় পরিণত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে বড়দাহ ব্রিজের পাশে নির্মিত হয় এ স্মৃতিসৌধ। ওই স্থানে আনসার কমান্ডার গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধের স্মৃতিকে সংরক্ষণের জন্য ২০২০ সালে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়। অথচ আজ তা পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আড্ডা আর ময়লার ভাগাড়ে।
স্থানীয় যুবক সম্রাট হোসেন বলেন, “প্রতিদিন বাইরের লোকজন এসে এখানে ধূমপান ও মাদক সেবন করে চারপাশ নোংরা করছে।”
পারভেজ নামে আরেকজন জানান, স্মৃতিসৌধের চারপাশে জমে থাকা পানি, পাতা ও ময়লার স্তূপ দেখে সহজেই বোঝা যায় এটি মাদকসেবীদের আস্তানা।
রইচ নামে আরেকজন অভিযোগ করেন, নির্মাণের পর থেকে সরকারিভাবে এর কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। তাই স্থাপনাটিতে পুলিশের নিয়মিত পাহারা ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।
শৈলকুপা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব হাশেম খান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে মাদকসেবীদের আড্ডা বসানো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি চরম অপমান।” তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনোভাবেই এ পবিত্র স্থানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসতে দেওয়া হবে না।”
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো