প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৬ পিএম আপডেট: ১৪.০৯.২০২৫ ৫:৪৮ PM

জনপ্রিয় শিল্পী ফরিদা পারভীন শনিবার রাত সোয়া ১০টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রয়াণে দেশের সংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও তার মৃত্যুতে শোক জানান।
রবিবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ফরিদা পারভীনের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়, যেখানে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। অনেকেই চোখে অশ্রু নিয়ে এবং হাতে ফুল হাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন।
শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সংস্থা (জাসাস)। অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম এবং ভিডিও কলে অংশগ্রহণ করে সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ফরিদা পারভীনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম সাংবাদিকদের বলেন, “ফরিদা পারভীন দেশাত্মবোধক গান করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে লালনের গানকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার গায়কিতে মধ্যবিত্ত ভঙ্গি রয়েছে এবং লালনের গানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। শেষ দশকগুলোতে তিনি একজন লালন সাধক হিসেবেই জীবন যাপন করেছেন, ফলে শিল্পী ও সাধকের দুটি দিক তার মধ্যে একাকার হয়েছে। একজন শিল্পী বিশেষ কাল্ট তৈরি করতে পারেন এবং সংস্কৃতির নতুন মাত্রা সৃষ্টি করতে পারেন—ফরিদা পারভীন সেই উদাহরণ।”
বিএনপির সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক চিত্রনায়ক উজ্জ্বল বলেন, “আমরা একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে হারিয়েছি। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”
শেষ শ্রদ্ধায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেরানীগঞ্জের তাওহীদের পাঠশালা থেকে খাদেম আলী আরিফ আকবরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “ফরিদা পারভীন লালনের বাণীকে সহজ করে নাগরিক জীবনে প্রচার করেছেন এবং লালনের গানকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন।”
ফরিদা পারভীনের স্বামী, বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আসা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় জাদুঘর, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পরিবারের সঙ্গে মরদেহ কুষ্টিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে বাদ মাগরিব ফরিদা পারভীনকে সমাহিত করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ