প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:০৭ পিএম আপডেট: ১২.০৯.২০২৫ ৮:১০ PM

ফাইল ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং প্রীতিলতা হলের হাউস টিউটর জান্নাতুল ফেরদৌস মৌমিতার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার নিজ জেলা পাবনাসহ সর্বত্র।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু ও প্রীতিলতা হল সংসদের নির্বাচন চলাকালীন ভোট গণনার সময় হঠাৎ করেই মৃত্যুবরণ করেন এই মেধাবী শিক্ষক। মৃত্যুর সময় তিনি পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মৌমিতা পাবনার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রুমী খন্দকার এবং পাবনা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক লুৎফুন্নাহার পলির একমাত্র সন্তান। তার বাবা রুমী খন্দকার চাটমোহর সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষকও ছিলেন।
ব্যক্তিগতভাবে ভেঙে পড়া বাবা রুমী খন্দকার বলেন, "শুক্রবার সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে মেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে জানায়, 'ভোট গুনতে যাচ্ছি'। ঠিক এক ঘণ্টা পর ৯টা ১৫ মিনিটে জামাইয়ের ফোনে জানতে পারি, মৌমিতা আর নেই। কীভাবে এই শোক সহ্য করবো!"
পারিবারিক সূত্র জানায়, মৌমিতা ২০০৯ সালে পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পরে পাবনা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে ভর্তি হন। পড়াশোনায় ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০২১ সালে শিক্ষক হিসেবে একই বিভাগে যোগ দেন। পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।
এবছরই তিনি সহপাঠি সিরাজুল ইসলাম মাসুমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাসুম একটি এনজিওতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
শুক্রবার বাদ এশা পাবনা শহরের কাছারি জামে মসজিদে জানাজা শেষে মৌমিতার দাফন সম্পন্ন হয় আরিফপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
মৌমিতার এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো