প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৬ AM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা ব্যাপক জয় লাভ করেছেন। স্বাধীনতার পর কোনো নির্বাচনে ছাত্রশিবির এত বড় জয়ের নজির স্থাপন করতে পারেনি। বিশেষ করে ভিপি পদে আবু সাদিক কায়েম এককভাবে এত ভোট পেয়েছেন যে, তার পরবর্তী শীর্ষ চারজন প্রার্থীর মোট ভোটের চেয়ে বেশি।
ছাত্রশিবিরের এই জয় নির্ভর করেছে কয়েকটি মূল ফ্যাক্টরের উপর। তারা রক্ষণশীল অবস্থান থেকে বেরিয়ে উদারপন্থি ও শিক্ষার্থীবান্ধব ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে অভ্যুত্থানের পর নানা বিতর্কিত ‘ট্যাগিং’-এর কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের প্রতি ‘সিমপ্যাথি’ তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প, ইফতার বিতরণ, সহায়তা ডেস্ক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছেছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ছাত্রশিবির অনলাইনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তারা অর্ধশতাধিক ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অন্য প্রার্থীদের আক্রমণ ও নিজেদের নেতাদের প্রশংসা করেছে। এসময় ভোটারদের ওপর কোচিং সেন্টারের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সরাসরি সংযোগ পেয়েছে।
ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে থেকে প্রথম বর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেছেন। অন্যান্য সংগঠন তুলনায় তারা ‘অরাজনৈতিক চরিত্র’ ধারণ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। এছাড়া নারীদের প্রতি তাদের উদারপন্থী পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ও সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ভোটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
পরিশেষে, ছাত্রশিবিরের সুশৃঙ্খল আচরণ, গ্রাউন্ড স্টাডি, কৌশলগত প্রচারণা, অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রম এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিভাজন ও দুর্বলতা তাদের জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সব ফ্যাক্টরের সমন্বয়ে ডাকসুতে তাদের জয় বিস্ময়কর হলেও অসম্ভব নয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ