প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:১৯ AM

কুড়িগ্রামে আলোচিত সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একই দিনে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৩৯ (২) ধারা অনুযায়ী সুলতানা পারভীনকে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে কুড়িগ্রাম কারাগার সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত পর্যন্ত তিনি এখনো কারাগারেই বন্দী রয়েছেন।
এর আগে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন সুলতানা পারভীন। ২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠায়। পরে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে ৯ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিন-সংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে না পৌঁছানোয় তিনি তখনও বন্দী ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চে কুড়িগ্রাম শহরের একটি সরকারি পুকুর সংস্কার করে ‘সুলতানা সরোবর’ নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক আরিফকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নেয় জেলা প্রশাসনের তিন ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাকে ধরলা নদীর তীরে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং মাদক মামলার সাজানো অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় সুলতানা পারভীন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। জনমতের চাপে দ্রুত আরিফকে জামিন দেওয়া হলেও এ ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান ছিল। অবশেষে আদালতের নির্দেশনা এবং সরকারের সিদ্ধান্তে সাবেক এই জেলা প্রশাসককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ