প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৫০ AM আপডেট: ১১.০৯.২০২৫ ১:৫৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি হামলার একদিনের মাথায় এবার ইয়েমেনে আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি সেনারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আল-জাওফ প্রদেশে চালানো এ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১১৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনও উদ্ধারকাজ চলছে।
বিমান হামলার ফলে সানার আল-তাহরির এলাকায় ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে গেছে অসংখ্য মানুষ। শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬০ নম্বর সড়কে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, যা স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রমকে ভেঙে দিয়েছে।
অন্যদিকে আল-জাওফ প্রদেশের রাজধানী আল-হাজমের সরকারি কমপাউন্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন নেভাতে ও আহতদের উদ্ধারে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো রাতভর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর ফলে কিছু ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। এ দাবির ফলে বোঝা যাচ্ছে, হামলাটি আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারত যদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় না হতো।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সানা ও আল-জাওফের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে তারা এ হামলাকে “কৌশলগত পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছে। এতে স্পষ্ট যে, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে এবং এতে কাতারের পর ইয়েমেনকে নতুন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ