প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৯ পিএম আপডেট: ০৯.০৯.২০২৫ ১২:৫৫ এএম

সংগৃহীত ছবি
পিরোজপুরের কাউখালীতে জমে উঠেছে সর্ববৃহৎ আমন ধানের চারা ক্রয়-বিক্রয়ের ভাসমান হাট। এ হাট থেকে কৃষক আমন ধানের বীজ সংগ্রহ করে সংকট মোকাবিলা করছে।
এদিকে আমন ধান আবাদের ধুম পড়েছে উপকূলজুড়ে। কৃষক এখন কৃষি জমিতে আমন আবাদ নিয়ে মহাব্যস্ত। তবে এবার মৌসুমের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বীজতলার আমন চারা বিপন্ন হয়ে পড়ে। অনেক কৃষকের আমন ধানের চারা সংগ্রহ করতে হয় বিভিন্ন স্থান থেকে।
সন্ধ্যায় কাউখালী শহরের চিরাপাড়া সেতুর কাছে নদী তীরবর্তী এ হাট শুক্র ও সোমবার বসে। হাটের দিনে সূর্য ওঠার আগেই ভোর থেকেই চারা বেচাকেনা শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকরা শত শত নৌকায় করে ধানের চারা নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। এ হাটে কয়েক লাখ টাকার আমন চারা বেচাকেনা হয়।
হাটে আমন ধানের চারা পোন (৮০ মুঠো) হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতি পোন চারার মূল্য ১ হাজার থেকে ১৮শ টাকা। এবছর চারা উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম অনেকটা কম বলে জানান কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কাউখালী অঞ্চলের কৃষি জমি আশপাশের জনপদের চেয়ে জমি উঁচু বলে এখানে জলাবদ্ধতা তেমন নেই। ফলে এখানকার কৃষি জমির বীজতলা অন্য এলাকার চেয়ে টিকে থাকে। এ কারণে অন্য এলাকার কৃষকরা আমন চারার সংকট কাটাতে কাউখালীর এ ভাসমান হাটে আসেন। পিরোজপুর, বাগেরহাট, বরগুনা, ঝালকাঠিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা এ হাটে বীজ কিনতে আসেন। পরিবহন সুবিধার কারণে নৌকা ও ট্রলারে করে ব্যবসায়ীরা ও কৃষকরা এখানে বীজের হাটে আসেন।
উপজেলার ডুমজুড়ি গ্রামের কৃষক আবুল কালাম জানান, গত বছরের চেয়ে এবছর বীজের দাম কম, যে চারা গত বছর ৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছে ওই একই চারা এ বছর বিক্রি হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়।
ঝালকাঠী থেকে চারা কিনতে আসা কৃষক মৃণাল কান্তি রায় বলেন, এখন ধানের জমি চাষ করতে শ্রমিক পাওয়া যায় না। আর পাওয়া গেলেও তাদের দৈনিক মজুরি ছয় থেকে সাতশ টাকা দিতে হয়। এত টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরির চেয়ে চারা কিনে চাষাবাদ করলে খরচ অনেক কম হয়।
কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোমা রানী দাস বলেন, 'এই এলাকার জমি একটু উঁচু ও নদীবেষ্টিত হওয়ায় পানি জমতে পারে না। তাই কম সময় একই জমি থেকে সর্বোচ্চ লাভের এটি একটি আধুনিক প্রযুক্তি। তাই এখানকার কৃষকেরা জমিতে কয়েকবার আমন ধানের চারার বীজতলা তৈরি করতে পারেন। ইতোমধ্যে কাউখালী উপজেলার কৃষকরা প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার আমন ধানের চারা বিক্রি করেছে।'
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার হালদার জানান, কাউখালীতে আশা করা যায় এই বীজতলা আরো ১৫ দিন বেচাকেনা হবে। আমাদের প্রতি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বর্তমানে যুবক শ্রেণী সহ সকল বয়সের লোকজন কৃষি কাজে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো