প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:০৪ পিএম

খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী, ইতিহাসবিদ ও লেখক বদরুদ্দীন উমর আজ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি হারাল এক স্পষ্টবাদী চিন্তক ও নিরপেক্ষ ইতিহাসবেত্তা। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে তিনি আমৃত্যু অকপটে মত প্রকাশ করেছেন।
গবেষণা ও লেখালেখিতে অসাধারণ অবদানের জন্য জীবদ্দশায় তাকে একাধিকবার রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হলেও তিনি কখনোই তা গ্রহণ করেননি। এমনকি এ বছর (২০২৫) স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন— “১৯৭৩ সাল থেকে আমাকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা পুরস্কার দিতে চেয়েছে। আমি কখনোই সেগুলো গ্রহণ করিনি। এবারও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে স্বাধীনতা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই, তবে এই পুরস্কার গ্রহণ আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
‘প্রতিধ্বনি’ নামের এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন তার অবস্থান। তার মতে, তিনি লেখালেখি করেন নিজের ভেতরের তাগিদ থেকে, কোনো পুরস্কারের আশায় নয়। লেখকের প্রকৃত পুরস্কার হলো মানুষ তার লেখা পড়বে, চিন্তা করবে ও উপকৃত হবে।
বদরুদ্দীন উমর মনে করতেন, পুরস্কার অনেক সময় লেখকের স্বাধীন চিন্তাকে সীমাবদ্ধ করে। রাষ্ট্র বা ধনিকশ্রেণি যখন পুরস্কার দেয়, তখন এর পেছনে থাকে লেখককে নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখার চেষ্টা। একবার পুরস্কার গ্রহণ করলে পরবর্তীতে আরও পুরস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়, যা লেখার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে।
নিজের যুক্তি পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি উদাহরণ টানেন পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর। বলেন, মহাশ্বেতা দেবী শুরুতে পুরস্কার গ্রহণ না করার নীতি নিলেও পরে নোবেল থেকে ম্যাগসেসে— সব পুরস্কার গ্রহণ করেন। এতে তার লেখার মান কমেছে এবং রাজনৈতিক আপসহীনতাও ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
বদরুদ্দীন উমরের বিশ্বাস ছিল— একজন লেখককে সত্যিকার অর্থে মুক্ত থাকতে হলে পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই তার সততা ও নৈতিক শক্তির প্রকাশ ঘটে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ