প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:১৬ AM আপডেট: ০৬.০৯.২০২৫ ৯:২০ এএম

সংগৃহীত ছবি
ফিলিস্তিনের গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রসঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিশর ও কাতার।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নেতানিয়াহুর মন্তব্য এ অঞ্চলের উত্তেজনা বাড়ানো এবং অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করে, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইসরাইলি টেলিগ্রাম চ্যানেল আবু আলি এক্সপ্রেস-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য তার কাছে নানা পরিকল্পনা রয়েছে এবং গাজার অর্ধেক জনগণ এলাকা ছাড়তে চায়। তবে তিনি দাবি করেন, এটি কোনো গণউচ্ছেদ নয়।
রাফাহ সীমান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি চাইলে তা খুলতে পারি, কিন্তু মিশর তা সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ করে দেবে।
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানায়, ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্ব বাস্তুচ্যুতির যেকোনো প্রচেষ্টা মিশর অতীতে যেমন প্রত্যাখ্যান করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। তারা এটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে অভিহিত করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় মিশর কোনোভাবেই সহযোগিতা করবে না বা করিডর হিসেবেও কাজ করবে না। মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে "লাল রেখা" হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে। তারা একে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের ওপর দখলদারিত্বের নীতির স্পষ্ট সম্প্রসারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
কাতারের বিবৃতিতে বলা হয়, দখলদার কর্তৃপক্ষের এই সমষ্টিগত শাস্তির নীতি কোনোভাবেই সফল হবে না। এতে ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভূমি থেকে উৎখাত করা কিংবা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইসরাইলের উসকানিমূলক ও উগ্র নীতির কার্যকর মোকাবিলা করতে হবে, যাতে সহিংসতার এই চক্র আর অব্যাহত না থাকে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে না পড়ে।
সূত্র: আল জাজিরা