প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৩ AM

রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের পানিশাইল চন্দ্রপুকুর গ্রামে একটি খানকা শরীফে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও জনতাকে ঠেকানো যায়নি।
স্থানীয় আজিজুর রহমান ভাণ্ডারি প্রায় ১৫ বছর আগে নিজ বাড়ির পাশে ‘হক বাবা গাউছুল আজম মাইজ ভাণ্ডারি গাউছিয়া পাক দরবার শরীফ’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিবছর এখানে ঈদে মিল্লাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। এ বছর তিন দিনের মিলাদ মাহফিলে নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণ এবং ভাণ্ডারি ও মুর্শিদী গান পরিবেশনের খবরে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
আজিজুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই অনুষ্ঠান বন্ধ করতে স্থানীয় কিছু লোক চাপ দিচ্ছিল এবং গত রাতে তারা থানায়ও গিয়েছিল। শুক্রবার নামাজ শেষে দেড় শতাধিক মুসল্লি একত্র হয়ে খানকায় হামলা চালায়। হামলার সময় পবা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছিলেন, তবে তিনি স্বীকার করেন, “মানুষ এত বেশি ছিল যে অল্পসংখ্যক পুলিশ দিয়ে কিছু করা সম্ভব হয়নি।”
হামলায় খানকার টিনের ঘর ভাঙচুর হয় এবং ভাণ্ডারির বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তিনি বলেন, “যেখানে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু করতে পারেনি, সেখানে অভিযোগ করব কার কাছে? আমি সবাইকে মাফ করে দিলাম। আল্লাহও যেন তাদের মাফ করে দেন।” তবে তিনি অভিযোগ করেন, ইউপির সাবেক সদস্য গোলাম মোস্তফা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না।
ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন বলেন, “যার যেটা বিশ্বাস, সে সেটা করবে। বিএনপি হলেও ছাড় নেই।” অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় আমির আযম আলী জানান, তাদের দলের কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত নয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ