প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:১৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদমসার গ্রামের করাতকল শ্রমিক নজির আহমেদ (৪০) প্রতিদিনের মতো দিনমজুরির কাজ করছিলেন। হঠাৎ ট্রাক থেকে গাছের গুঁড়ি নামানোর সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সহকর্মী ও স্বজনরা বিচ্ছিন্ন হাতটি পলিথিনে ভরে হাসপাতালে নিয়ে যান।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাকে কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখান থেকে পাঠানো হয় কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে। ওই রাতেই প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারে তার বিচ্ছিন্ন হাত পুনরায় সংযোজন করেন চিকিৎসকরা।
অস্ত্রোপচার দলের নেতৃত্ব দেন ময়নামতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক আরিফুর রহমান, রহমত উল্লাহ ও এনামুল হক।
ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অস্ত্রোপচারে সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোগী দ্রুত হাসপাতালে আসায় আমরা সফলভাবে হাত জোড়া লাগাতে পেরেছি। এটি কুমিল্লায় একটি বড় অর্জন এবং দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি জানান, এখন কুমিল্লাতেই এমন জটিল সার্জারি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন এবং খরচও তুলনামূলকভাবে কম হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নজির বর্তমানে বেডে শুয়ে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। জোড়া লাগানো হাতে স্পর্শ করলে তিনি ইতোমধ্যেই অনুভব পাচ্ছেন।
নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে নজির বলেন, ট্রাকের ওপর থেকে গাছের খাড়ি পড়ে আমার হাতের উপর চাপ দেয়। আমি চিৎকার করে বলি হাত নাই। পরে সবাই হাতটা পলিথিনে ভরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
তিন সন্তানের বাবা নজির প্রতিদিন মাত্র ৭০০ টাকা মজুরিতে সংসার চালান। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা ব্যয়ের চিন্তায় পড়লেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আশ্বস্ত করেছে।
কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল হক বলেন, রোগী অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আমরা তাকে বলেছি আগে চিকিৎসা, পরে অর্থের বিষয় দেখা যাবে। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে, এটিই সবচেয়ে বড় কথা।