প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৫৯ AM

ক্যালিফোর্নিয়ার ফস্টার সিটিতে কানাডার রাজহাঁসের সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেছে যে তা এখন জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন শত শত পাউন্ড মল ত্যাগ, জলাশয়ে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি এবং শিশুদের ভয় দেখানোসহ নানা সমস্যার কারণে শহর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার খরচ করে এদের নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রায় ৩৩ হাজার মানুষের শহর ফস্টার সিটিতে আগে প্রায় ৪০০টি রাজহাঁস দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে তাদের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এতদিন শহর কর্তৃপক্ষ কম ব্যয়বহুল নানা পদ্ধতি প্রয়োগ করলেও তাতে ফল আসেনি। এবার ড্রোন, বর্ডার কুকুর ও জলে ভাসমান রিমোট-কন্ট্রোল যন্ত্র ব্যবহার করে রাজহাঁস তাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহরের পার্ক ও বিনোদন পরিচালক ডেরেক সুইগার্ট বলেন, “আমরা যদি এমন সমাধান খুঁজে পাই যাতে মানুষ ও হাঁস কোনও সমস্যায় না পড়ে একসাথে থাকতে পারে, তবে সেটিই হবে আমাদের বড় সাফল্য।”
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ‘বিরক্তিকর’ প্রাণী দমনে নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে। যেমন—ফ্লোরিডায় সীমিতভাবে কালো ভালুক শিকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মিশিগানে সারা বছর হায়েনা শিকারের অনুমতি পুনর্বহাল করা হয়েছে। ফস্টার সিটি ২০২১ সালে রাজহাঁস নিধনের পরিকল্পনা করলেও জনরোষে তা বাতিল হয়। পরে ডিমে তেল মাখিয়ে বংশবৃদ্ধি রোধ ও পার্ক ঘিরে বেড়া দেওয়ার মতো অহিংস পদ্ধতি নেওয়া হলেও তাতেও কাজ হয়নি।
ফস্টার সিটি এবার বাজপাখির মতো দেখতে ড্রোন ব্যবহার করবে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মেলানি উইভার বলেন, আগে কানাডার রাজহাঁস শীতকালে দক্ষিণে চলে যেত। কিন্তু পার্ক, জলাশয় ও প্রচুর খাবারের কারণে তারা এখন উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াতেই থেকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা নিজেরাই তাদের জন্য চমৎকার আবাসস্থল তৈরি করেছি। শিকারির অভাব ও মানুষের খাবার দেওয়াই সমস্যাকে বাড়িয়েছে।”
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ ইনোভেশনস ইনকর্পোরেটেড। তাদের প্রেসিডেন্ট জেক ম্যানলি ও বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল বাইটেম্যান জানান, রাজহাঁস অত্যন্ত চতুর এবং পরিবেশের পরিবর্তন দ্রুত বুঝতে পারে। তাই তাদের তাড়াতে স্থল ও জল উভয় জায়গায় কার্যকর এমন যন্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। বাইটেম্যান বলেন, “লক্ষ্য হলো রাজহাঁসের জন্য পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলা। আমরা কৌশল বদলাতে থাকব যতক্ষণ না তারা শহর ছাড়ে।”
তবে বিজ্ঞানী উইভার সতর্ক করেছেন, ফস্টার সিটি থেকে রাজহাঁস চলে গেলেও তারা সম্ভবত আশপাশের অন্য শহরে বাসা বাঁধবে। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় পার্শ্ববর্তী শহরগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে। ফস্টার সিটির কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে—সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থার পরও কিছুসংখ্যক রাজহাঁস শহরে থেকে যাবে।
সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ