প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৮ AM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন রাকসু নির্বাচন নিয়ে সর্তক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “তোমরা তালা দিবা, তোমরা হাতাহাতি করবা, আর তোমাদের ইলেকশন আমাকে করে দিতে হবে। মামার বাড়ির আবদার।”
উপাচার্য জানান, যদি ছাত্ররা নির্বাচনকালীন ছাত্রসুলভ আচরণ বজায় রাখতে না পারে, তাহলে তারা নিজেদের অযোগ্য প্রমাণ করছে।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ঘটনা রাকসু নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তিনি নির্বাচনী কমিশন ও অন্যান্যকে প্রশংসা করে বলেন, “তাদের প্রত্যেকে উচ্চ নৈতিকতা ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে দায়িত্ব ছাড়েননি।”
সালেহ হাসান নকীব বলেন, ছাত্ররা যদি নিয়মকানুনের মধ্যে থাকতে না পারে, তবে তারা রাকসু নির্বাচনে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারবে না। প্রক্টরিয়াল বডি সব সময় সংযম দেখিয়েছে এবং কোনো ড্রাস্টিক ব্যবস্থা নেয়নি।
রাকসু নির্বাচনে সেনা মোতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি চাইতাম সম্পূর্ণ আমাদের সামর্থ্য ও ভেতরের সৌন্দর্য দিয়ে নির্বাচন হোক। কিন্তু এখানে অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যদি সেনাবাহিনী পর্যন্ত চলে আসে, তাহলে এটা ছাত্রসমাজের জন্য কষ্টকর।”
প্রসঙ্গত, প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে চেয়ার ভাঙচুর, টেবিল উল্টে দেওয়া এবং ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কের নেতৃত্বে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীরা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সেখানে পৌঁছান। কয়েক দফা ধস্তাধস্তির পর চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বেলা দুইটার দিকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয় এবং পরে বিতরণের সময় একদিন বাড়ানো হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ