প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৫৩ AM

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার হাবিবপুর এলাকায় হবু বউয়ের ভাড়া বাসায় সজিব (২৫) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর গ্রামের প্রয়াত আলাউদ্দীন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, জামালপুর জেলার বকসীগঞ্জ উপজেলার ধারারচর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে বিথী আক্তারের (২১) সঙ্গে সজিবের পারিবারিকভাবে বিয়ের কথা চলছিল। বিথী একজন বিউটিশিয়ান এবং এক সন্তানের জননী। এ সুবাদে সজিব নিয়মিত তার ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে সোনারগাঁওয়ের হাবিবপুর এলাকার হারুন অর রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া বিথীর বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সজিবকে পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম খান জানান, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে নিহতের মা রাশিদা বেগম দাবি করেন, তার ছেলে পরিকল্পিত হত্যার শিকার। তিনি জানান, ঘটনার দিন দুপুরে বিথী ফোনে প্রথমে সজিবের সঙ্গে ঝগড়ার কথা জানান, পরে আবার বলেন সব ঠিক আছে। কিন্তু বিকেলে আবার ফোন দিয়ে জানান সজিব অসুস্থ। পরে তিনি বাসায় গিয়ে ছেলেকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন, আর ফ্যানের সঙ্গে একটি খালি ওড়না ঝুলছিল। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সজিবের ছোট ভাই সবুজ অভিযোগ করেন, বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত হলেও বিথী নাকি আগের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এ নিয়ে সজিবের সঙ্গে তার বিরোধ হতো। তাদের ধারণা, বিথী ও তার আগের স্বামী মিলে পরিকল্পিতভাবে সজিবকে হত্যা করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিথী বলেন, “সজিবের সঙ্গে আমার পূর্ব পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে নিয়মিত আমার বাসায় আসত। ঘটনার দিন দুপুরে আমরা আলাদা রুমে ঘুমাচ্ছিলাম। পরে শব্দ পেয়ে তার রুমে গিয়ে দেখি গলায় ফাঁস লাগানো ওড়না খুলে পড়ছিল। তখন আমি পা ধরে ফেলি। তার পরিবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
বুধবার বিকেল ছয়টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে সজিবের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি টেংগারচরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর