
সংগৃহীত ছবি
সাধারণত গর্ভাবস্থার শুরুতে মা বমি, পেট ফুলে যাওয়া বা অনিয়মিত মাসিকের মতো লক্ষণ দেখে বুঝতে পারেন। কিন্তু সব সময় এমন হয় না। কিছু নারীর ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা রহস্যময়ভাবে চলে, এমন অবস্থাকেই বলা হয় ক্রিপটিক প্রেগনেন্সি বা রহস্যময় অন্তঃসত্ত্বা। এই অবস্থায় একজন নারী নিজেও জানেন না যে তিনি গর্ভবতী, এবং সাধারণত বুঝতে পারেন শুধুমাত্র প্রসবের সময়।
ক্রিপটিক গর্ভাবস্থায় প্রেগনেন্সি কিটও নেগেটিভ ফল দিতে পারে। অনেক সময় ভুলভাবে কিট ব্যবহার করাও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। নির্ভুলভাবে জানতে হলে রক্ত পরীক্ষা করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। যুক্তরাজ্যের হিসাব অনুযায়ী প্রতি আড়াই হাজার প্রসবের মধ্যে একটিই ক্রিপটিক প্রেগনেন্সি, অর্থাৎ প্রতি বছর ব্রিটেনে অন্তত তিনশটি গর্ভাবস্থা থাকে রহস্যময়।
ঝুঁকিতে কারা ?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, কিছু কারণে ক্রিপটিক গর্ভাবস্থার ঝুঁকি বেড়ে যায়:
সম্প্রতি সন্তান জন্মদানকারী মা: সন্তান জন্মের পর মাসিক ফিরে আসতে কয়েক মাস সময় লাগে। যদি মা বুকের দুধ খাওয়ান, তাহলে ডিম্বস্ফোটন বন্ধ থাকতে পারে। ফলে মায়ের মনে হতে পারে যে তিনি গর্ভবতী নন।
পিসিওস (Polycystic Ovary Syndrome): অনিয়মিত মাসিকের কারণে গর্ভাবস্থা সহজে বোঝা যায় না।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার: ব্যবহার সঠিক হলেও ব্যর্থতার সম্ভাবনা থাকে। তাই কেউ ভাবতে পারেন যে গর্ভধারণের কোনো সম্ভাবনা নেই।
পেরিমেনোপজের নারী: বয়স বেশি হলে অনেক সময় গর্ভাবস্থার লক্ষণকে মেনোপজের লক্ষণ ভেবে ভুল বোঝা হয়।
আগে কখনও গর্ভবতী হননি: অভিজ্ঞতার অভাবে গর্ভাবস্থা দীর্ঘ সময় অজানা থাকে।
ক্রিপটিক গর্ভাবস্থার জটিলতা
যে নারী জানে না সে গর্ভবতী, তার গর্ভাবস্থা নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
গর্ভকালীন যত্নের অভাব: প্রয়োজনীয় পুষ্টি, স্বাস্থ্যপরামর্শ বা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস না মানায় ভ্রূণের বিকাশে সমস্যা হতে পারে।
জীবনযাত্রায় অসামঞ্জস্য: সিগারেট, মদ বা ওষুধ গ্রহণের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে সচেতন হওয়া যায় না।
উচ্চ ঝুঁকি: প্রিক্ল্যাম্পসিয়া, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা অন্যান্য জটিলতা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে বাধা আসে।
জন্মগত ঝুঁকি: জেনেটিক পরীক্ষা বা অন্যান্য মূল্যায়ন না হওয়ায় শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
প্রিম্যাচ্যুর শিশুর সম্ভাবনা: ক্রিপটিক গর্ভাবস্থা থেকে জন্ম নেওয়া শিশু প্রায়শই অপরিণত বা শ্বাসকষ্টসহ জন্মায়, যার কারণে বৃদ্ধি দুর্বল হয়।
ক্রিপটিক গর্ভাবস্থা স্বাস্থ্য এবং মাতৃত্বের জন্য সতর্কতার বিষয়। যে কোনো অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন বা লক্ষণ লক্ষ্য করলে ডাক্তার পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক