
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক
ঢাকা-সিলেট (কাঁচপুর-তামাবিল) মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সৃষ্টিগড় মৌজার জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পুনর্বিবেচনার জন্য একাধিক ভূমি মালিক নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছেন।
আবেদনে জমির মালিকরা উল্লেখ করেন, সৃষ্টিগড় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন দাগ নং ৩০০, ৩০১, ৩০২, ৩০৩, ৩০৪, ৩০৫, ৩১৫, ৩১৮, ৩৬৩, ৩৯৯, ৯০১, ৯০২, ১১৩১ ও ১২৩২ নং দাগের ভূমিতে দোকানঘর, মসজিদ, স’মিল, আইনজীবী চেম্বার, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও শিল্পকারখানা বিদ্যমান। এসব দাগ বাণিজ্যিক ভূমির অন্তর্ভুক্ত হলেও ১৯৬২ সালের আরএস রেকর্ডে বাগানের শ্রেণিভুক্ত দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন হয়ে বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখনো বিএস রেকর্ড হয়নি।
আবেদনকারীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে এসব মৌজার জমি প্রতি শতাংশ প্রায় ৩০ লাখ টাকা দামে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। বিদ্যুতের বিলও তারা বাণিজ্যিক হারে পরিশোধ করছেন। তারা আরও বলেন, জমি অধিগ্রহণের সময় কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনে এসে আশ্বস্ত করেছিলেন যে জমির বর্তমান অবস্থান ও ব্যবহার অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এমনকি শুনানিতেও বাণিজ্যিক হারে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জানা যায়, কাগজপত্রে যেভাবে শ্রেণি উল্লেখ আছে সেভাবেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে—যা মালিকদের কাছে অপ্রত্যাশিত।
ভূমি মালিকরা জানান, এই জমিতে বিদ্যমান দোকানঘর, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা তাদের জীবিকার একমাত্র উৎস। বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে তারা অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে সর্বস্বান্ত হবেন। অনেকে এমনকি আত্মহত্যার পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, সৃষ্টিগড় মৌজার জমি প্রতি শতাংশ প্রায় ৩০ লাখ টাকা হারে বিক্রি হলেও সরকারিভাবে মৌজা মূল্য আশপাশের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম ধরা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পাশের যোশর মৌজার চৈতন্যা ও কামারটেক এলাকায় শতাংশপ্রতি ৯ লাখ টাকা এবং মরজাল বাসস্ট্যান্ড বাজার এলাকায় শতাংশপ্রতি ২৪ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। অথচ সৃষ্টিগড় মৌজা এসব এলাকার তুলনায় কোনো অংশেই অনুন্নত নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে আরও উন্নত।
আবেদনকারীরা বলেন, সৃষ্টিগড় মৌজায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছাড়াও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি জামিয়া মাদ্রাসা, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ব্যাংক বুথ, ঈদগাহ মাঠ, খেলার মাঠসহ বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান।