
১. ফরহাদ হোসেন আজাদ ২. মাসুদ রানা রিয়াজ ৩. সফিউল্লাহ সুফি ৪. এমরান আল আমিন ৫. তাসমিয়া প্রধান জুঁই ৬. মীর আমির হোসেন আমু
পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসন পঞ্চগড়- ২। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নির্বাচনী তৎপরতাসহ ভোটের মাঠে চায়ের কাপে ঝড় তুলেছেন বিএনপি, জামায়াত সহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বিএনপি থেকে এ আসনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ রানা রিয়াজও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ আসনটিতে দলের চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সফিউল্লাহ সুফির নাম ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক এমরান আল আমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান জুঁই এই আসনে প্রার্থী হতে পারেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম-গঞ্জ সহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে চষে বেড়াচ্ছেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিভিন্ন সমাবেশে এই উদ্যমী তরুণ নেতাকে নিবার্চিত করতে মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরহাদ হোসেন আজাদকে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে এ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা রিয়াজও ইতোমধ্যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরাসহ সভা-সমাবেশ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
বোদা-দেবীগঞ্জ আসনে আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ও বোদা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সফিউল্লাহ সুফি। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। জামায়াতের এ নেতা তার জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। এজন্য দলীয়ভাবে তার প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তিনি ব্যাপকভাবে সভা-সমাবেশসহ গণসংযোগ করছেন।
এছাড়া এ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক এমরান আল আমিনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের আসাদুজ্জামান নুরসহ বিভিন্ন দল থেকেও এ আসনে প্রার্থী দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় জাগপার সহসভাপতি ও প্রয়াত সফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান জুঁই এ আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উদীয়মান নেতা মীর আমির হোসেন আমুও এ আসনে ভোট যুদ্ধে লড়বেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে এ আসনে সংখ্যালঘু হিন্দু স¤প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক ভোটারকে যারা কাছে টানতে পারবেন, তারাই এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন বলে ধারনা করছেন সাধারণ ভোটার সহ সচেতন মহল।
জামায়াত মনোনীত সফিউল্লাহ সুফি বলেন, দলীয় ভাবে পঞ্চগড়-২ আসনে আমার প্রার্থীতা চুড়ান্ত হওয়ার পর থেকে দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি। আমি জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছি। সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন হলে আমি শতভাগ জয়ের আশাবাদী। ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। জেল-জুলুমসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় দলকে নিয়ে কাজ করেছি। এই আসনের ভোটাররা আমাকে এলাকার গণমানুষকে সাথে নিয়ে তাদের হয়ে কাজ করার সুযোগ দেবেন বলে আশা করি।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বিপুল ভোটে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পার্টির লুৎফর রহমান রিপন। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নূরুল ইসলাম সুজন জয় পান। তবে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি বিএনপির দখলে যায়।
ঐতিহাসিকভাবে এ আসনে দলবদল ঘটেছে কয়েকবার। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মোজাহার হোসেন। তার আগে ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জয় পান জমায়েতিয়া পার্টির প্রার্থী এমডি. কামিজ উদ্দিন।