
বরগুনা-০১ আসন দেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত বরগুনা জেলার বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আসনটি গঠিত হয়েছে। ২০০৮ সালে নতুন করে আসন বিন্যাসের আগে বরগুনা সদর উপজেলাটি বরগুনা-০১ আসনের অংশ ছিল এবং আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে ছিল বরগুনা-০৩ আসনটি।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-০১ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং বরগুনা-০৩ আসনে প্রথমে শেখ হাসিনা এবং উপ-নির্বাচনে বিএনপি’র মতিয়ার রহমান তালুকদার নির্বাচিত হয়েছিলেন। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর পাল্টে গেছে এখানকার রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ। যে কারণে অবস্থার উন্নতি হয়েছে বিএনপিসহ অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলের।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপি’র ৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশি কাজ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ-উজ-জামান মামুন মোল্লা, বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল হক মাস্টার, বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সি: সহ-সভাপতি সালে ফারুক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. রেজবুল কবির। এরমধ্যে নজরুল ইসলাম মোল্লাকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান তালুকদারের সাথে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপি মতিউর রহমান তালুকদারের মনোনয়ন চূড়ান্ত করলে নজরুল মোল্লা তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘সারা জীবন বিএনপি’র রাজনীতি করেছি। ছাত্রদল করেছি, দীর্ঘদিন জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলাম। জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চার বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। শেখ হাসিনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দিন রাত সাধারণ মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছি। আশা করি দল নিশ্চয়ই আমার এসব কাজের মূল্যায়ন করবে।’
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ-উজ-জামান মামুন মোল্লা বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। চাঁদাবাজি-দখলবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছি। স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেছি। যোগ্যতা বিবেচনায় দল আমাকে মনোনয়ন দিবে বলে আমি আশা করছি।’
জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এ জেড এম সালে-ফারুক বলেন, ‘জীবনের মূল্যবান সময় বিএনপির পেছনে ব্যয় করেছি। গত ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকার এর মামলা হামলার নির্যাতনের শিকার হয়েছি, একাধিকবার জেল খেটেছি। রাজপথে থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। কখনো পিছ পা হইনি। দলের জন্য দুঃসময়ে যে কাজ করেছি, আশা রাখছি দল আমাকে নিরাশ করবেন না।’
বিএনপি আরেক নেতা ফজলুল হক মাস্টার বলেন, ‘এক এগারোর সময়ে প্রায় আট মাস ডিটেনশনসহ এক বছর জেল খেটেছি। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়েছি, মার খেয়েছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের কঠিন সময়ে অনেক নেতাকে যখন কাছে পাইনি তখন সকল প্রোগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় গণসংযোগ করেছি। সাধারণ মানুষ আমার সাথে আছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে জয়ের ব্যাপারে আমি একশ ভাগ আশাবাদী।’
বিএনপি নেতা মো. রেজবুল কবির বলেন, ‘ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। একদিনের জন্যও দলের বাইরে কিছু চিন্তা করিনি। বরগুনা সরকারি কলেজে দুই বার জিএস নির্বাচিত হয়েছি এবং বরগুনা সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের আমলেও সর্বাধিক ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দিনরাত মানুষের জন্য কাজ করেছি। সার্বিক বিবেচনায় দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচিত হবো ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে অনেকটা স্বস্তিতে আছে জামায়াত ইসলাম। প্রায় ছয় মাস আগে জামায়াত তাদের জেলা আমির ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুনকে এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তিনি এলাকায় নিয়মিত গনসংযোগ করছেন।
তিনি বলেন, জনগন এখন ইসলামী দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছি। যেখানে যাচ্ছি জনগণের আকুন্ঠ সমর্থন পাচ্ছি। আশা করছি আগামী নির্বাচনে জমায়াতে ইসলামীকে আসনটি উপহার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
এই আসনটিতে ভোটের দিক থেকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন। বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। আসনটিতে ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থী দলটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালীউল্লাহ। তবে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এই আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলের তেমন কোন কার্যক্রম নেই। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের তেমন কোনও তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম